চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগরীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ লোডশেডিং পরিস্থিতি। দিনে ও রাতে গড়ে ৭ থেকে ৮ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শিশু, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ-সব শ্রেণির নাগরিকই চরম ভোগান্তির মুখে।
বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার চলমান সময়ে এই অপ্রত্যাশিত ও ঘনঘন লোডশেডিং শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করেছে এক কঠিন বাস্তবতা। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। রাতেও একই চিত্র, ফলে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত গাজীপুরে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে উৎপাদন খাতেও। ছোট-বড় অসংখ্য কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে শ্রমঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে। একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও আদালতের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর-১ পল্লী বিদ্যুৎ জোনের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ইউসুফ আলী আজকালের খবরকে বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গাজীপুর-১ এলাকায় দৈনিক চাহিদা যেখানে প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৪ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩২০ থেকে ৩৩০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণেই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে লোডশেডিং কমে আসতে পারে।
এদিকে নাগরিকরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই তীব্র তাপদাহ ও বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে আরও অচল করে তুলবে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজীপুর যেন এক ধরনের 'বিদ্যুৎ দুর্যোগে' রূপ নিয়েছে-যেখানে গ্রীস্মের গরম, ঘাটতি আর লোডশেডিং মিলে জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে প্রতিদিনই।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন