শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দুইদিনে ১২ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৯ পিএম   (ভিজিট : ১৯১)
দেড় মাস বিরতির পর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবার সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাজার থেকে ৭ কোটি ডলার কেনার পর বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আরও ৫ কোটি ডলার কিনেছে প্রতিষ্ঠানটি। 

চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এই ১২ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে সবশেষ ২ মার্চ আড়াই কোটি ডলার কেনা হয়েছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে।

নতুন করে কেনাকাটার ফলে চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। এতে আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডলারের দরে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ডলারের দরে সামান্য ওঠানামা দেখা দেয়। মার্চের শুরুতে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় পৌঁছায়, যা এর আগে দীর্ঘদিন ১২২ টাকা ২৫-৩০ পয়সার মধ্যে ছিল। এরপর কিছু সময় বাজার থেকে ডলার কেনা স্থগিত রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার ৭ কোটি ডলার কেনার বিপরীতে বাজারে প্রায় ৮৫৯ কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়। এর আগে, ২ মার্চ পর্যন্ত ৫৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনে বাজারে ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

এদিকে আমদানি বাড়লেও রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইসরায়েল-ইরান ইস্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ডলার বাজারে চাপ তৈরির আশঙ্কা তৈরি করলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ১৬১ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৮২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।

২০২১ সালের আগে দীর্ঘদিন ডলারের দর ৮৪ টাকায় স্থিতিশীল থাকলেও করোনা-পরবর্তী সময় ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তা বাড়তে বাড়তে ১২২ টাকার ওপরে উঠে যায়। একই সময়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে আসে। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার।

সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভ আবার বেড়ে বুধবার পর্যন্ত গ্রস হিসেবে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে আকুর (Asian Clearing Union) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির আমদানি দায় বাবদ প্রায় ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ সাময়িকভাবে কমে গিয়েছিল।

আজকালের খবর/বিএস 










Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় কূটনৈতিকভাবে লাভবান পাকিস্তান
মোহাম্মদপুরে আসাদুল হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
ফ্রাঙ্কফুর্টে আলোচনা সভা ও গুণীজন সম্মাননা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
মিরপুরে কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে শুক্রবার
চীন সফরে মেগাস্টার উজ্জল, জানালেন স্বপ্নের কথা
জ্বালানি সংকটে কুমিল্লা অচল: ৮১টির মধ্যে ৪৯ ফিলিং স্টেশন বন্ধ
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft