ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের নজরদারিকে উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে অবাধে চলছে ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী পদ্মা নদীর পাড়, শয়তান খালী ঘাট সংলগ্ন এলাকা এবং বেপারী ডাংঙ্গী অঞ্চলে নির্বিঘ্নে বালু লুটে নিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন রাত ১০টার পর থেকে পিয়াজখালী পদ্মা নদীর তীরে একাধিক ভেকু মেশিন বসিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই সময়ে শয়তান খালী ঘাট ও বেপারী ডাংঙ্গী এলাকাতেও একই ধরনের কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, সারারাত ড্রাম ট্রাকের শব্দে ঘুমাতে পারি না। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পড়াশোনা ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। যারা বালু কাটে তারা খুবই প্রভাবশালী—তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই বিপদের আশঙ্কা থাকে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যেই নদী তীরবর্তী ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে। নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়িও হুমকির মুখে রয়েছে। পাশাপাশি বালু কাটার ফলে সৃষ্ট ধুলাবালিতে স্থানীয়দের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, উত্তোলিত বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় এসব রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে অব্যাহতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন চলতে থাকলে পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তারা দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন