
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প নির্দেশক ও চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ (৭৩) মারা গেছেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে এই শিল্পীর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন নির্মাতা অনিমেষ আইচ।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে লালবাগের পোস্তা শ্মশানঘাটে তরুণ ঘোষের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
“তরুণ দা হৃদরোগে মারা গেছেন, অ্যাজমা ছিল। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
অনিমেষ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তরুণ ঘোষকে প্রথমে জাতীয় জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে নেওয়া হয়। সেখানে তার ছাত্র-ছাত্রী, সতীর্থ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুসারীরা শ্রদ্ধা জানান।
চারুকলায় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তরুণ ঘোষের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে বড় পরিসরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে লালবাগের পোস্তা শ্মশানঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ।
রাজবাড়ী জেলায় জন্ম নেওয়া তরুণ ঘোষ ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক শেষ করেন। পরে ১৯৮৬ সালে ভারতের বরোদার এম এস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান।
১৯৭৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকদের একজন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি এম এস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ফোক পেইন্টিং রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন প্রোগ্রাম’-এ কাজ করেন।
১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে যোগ দেন তরুণ ঘোষ। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালে ‘কিপার’ পদ থেকে অবসর নেন।
চিত্রকলার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শিল্প নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন তরুণ। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় আবু সাইয়ীদের চলচ্চিত্র ‘কিত্তনখোলা’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।
এ ছাড়া তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নরসুন্দর’, এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে তিনি শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন।
সর্বশেষ এন রাশেদ চৌধুরীর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ‘সখী রঙ্গমালা’তেও শিল্প নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেন তরুণ ঘোষ।
চিত্রকলায় তার ‘বেহুলা’ সিরিজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এশিয়ান আর্ট অ্যাওয়ার্ড পায়।
আজকালের খবর/আতে