গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানাধীন প্যাসিফিক ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান টিটুর বিরুদ্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোরি চায়না হংকং ফুটওয়্যার লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার তাও ইউ (টিম ইউ) এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি বিনিয়োগকারী প্যাসিফিক ফুটওয়্যারের প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটি, বন্ড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন এবং রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং এর বিনিময়ে এমডিকে নির্ধারিত কমিশন দেওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ভিসা সুবিধা, লাইসেন্স ব্যবহার, অবকাঠামো ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বাস্তবে কার্যকর করা হয়নি। ভুক্তভোগীর দাবি, বিনিয়োগকারীর ভিসা প্রসেসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বহিরাগতদের মাধ্যমে কারখানার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এর ফলে গত ৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে কোনো পণ্য রপ্তানি সম্ভব হয়নি। রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যাঘাত ঘটছে, যার কারণে কারখানায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী তাও ইউ বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে বিশ্বাস করেই তারা বিনিয়োগ করেছেন, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং দ্রুত পণ্য শিপমেন্ট চালুর জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘটনাটি শুধু একটি ব্যবসায়িক বিরোধ নয়, বরং এটি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যেখানে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান জরুরি।
আজকালের খবর/বিএস