উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে চলতি মৌসুমে সুপারির ফলন সন্তোষজনক হলেও দাম কম থাকায় হতাশ কৃষকরা। উৎপাদিত সুপারি মূলত স্থানীয় বড় বাজারে বিক্রি হয় এবং ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। কিছু ব্যবসায়ী সংরক্ষণ করে অফ-সিজনে বিক্রি করে বেশি লাভের চেষ্টা করেন।
জেলা সদরের বড়বাড়ী হাটে সপ্তাহে দুই দিন—বুধবার ও শনিবার—সুপারি কেনাবেচা হয়। পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, রাজারহাট ও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চাষি ও ব্যবসায়ীরা এখানে সুপারি কিনেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই হাটে প্রতি হাটবারে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়।
হাট-বাজার ঘুরে জানা গেছে, গত বছর দেশি সুপারি প্রতি পোন (৮০টি) ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। বড় আকারের সুপারি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোয়ালপুরের ‘মজা’ সুপারি প্রতি পোন ২৩০ টাকা এবং সিলেটের ‘মজা’ সুপারি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দেশি সুপারি প্রতি কাউন (১৬ পোন) ২ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বড়বাড়ী হাটে সুপারি বিক্রি করতে আসা কৃষক হামিদ আলী বলেন, এ বছর ফলন ভালো হলেও দাম কম। একই হাটের কৃষক আব্দুল মতিন রহমান জানান, গত বছর যে পরিমাণ সুপারি বিক্রি করে ২ হাজার টাকা পেয়েছিলাম, এবার তা অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এই সময় সুপারি বিক্রির টাকায়ই সংসার চলে, কিন্তু এবার দাম একেবারেই কম।
সুপারি ব্যবসায়ী মোরশেদ হোসেন বলেন, রমজান মাসে চাহিদা কিছুটা কম থাকে এবং পাইকারের সংখ্যাও কম। ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা না থাকায় দাম কমেছে। তিনি বর্তমানে কৃষকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় সুপারি কিনছেন।
আরেক ব্যবসায়ী হায়দার আলী জানান, অন্যান্য এলাকায় ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেশি। রমজান শেষে চাহিদা বাড়লে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে শুকনো সুপারি আমদানি হওয়ায় বড় মোকামগুলোতে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে বাজারে ঘাটতি না থাকায় দাম কমেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটে বর্তমানে ৫১৪ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সুপারি বাগান রয়েছে। তা ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে থাকা সুপারি গাছ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় সুপারি উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। জেলা মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অনুকূল। বাজারদর বর্তমানে কম থাকলেও আগামীতে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রমজান-পরবর্তী চাহিদা বৃদ্ধিতে সুপারির বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আপাতত কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
আজকালের খবর/বিএস