বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬
উন্নয়ন পরিকল্পনার ফুলঝুঁড়ি আর প্রতিশ্রুতি’র পাহাড় জমজমাট খাগড়াছড়ির নির্বাচনী মাঠ
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম  আপডেট: ০৪.০২.২০২৬ ৫:২২ পিএম  (ভিজিট : ৫৮৮)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমজমাট খাগড়াছড়ির নির্বাচনী মাঠ। এখানে উন্নয়ন পরিকল্পনার ফুলঝুঁড়ি আর প্রতিশ্রুতি’র পাহাড় প্রচারণায়। যতই এগিয়ে আসছে নির্বাচনের দিনক্ষণ ততই নির্বাচনী আমেজ বাড়াতে জেলা-উপজেলা,গ্রাম ও পাড়া পাড়ায় প্রচারণা বাড়ছে প্রার্থীদের। ২৯৮ নং আসনে ১১ প্রার্থী তাদের নিজ কৌশলে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিরামহীন ভাবে ছুটে চলছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ফলে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। 

তবে প্রচারণায় বেশ জমজমাট সময় পার করছেন, বিএনপির আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া-(ধানের শীষ),বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মো.এয়াকুব আলী- (দাঁড়ি পাল্লা),স্বতন্ত্র প্রার্থী সমিরণ দেওয়ান-(ফুটবল),স্বতন্ত্র ধর্ম জ্যোতি চাকমা-(ঘোড়া),ইসলামী আন্দোলনের মো. কাউসার আজিজী-(হাত পাখা) বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশ্যেপ্রু মারমাকে-(রকেট)। 

এদিকে মাঠে গণঅধিকার পরিষদ এর দীনময় রোয়াজাকে-(ট্রাক),জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজাকে-(লাঙল),ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম-(আপেল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা-(হারিকেন), স্বতন্ত্র জিরুনা ত্রিপুরা-(কলস),  নিয়ে ছুটছেন ভোটারদের কাছে। 

প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী ইসতেহার,পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় গেলে জনগণের জন্য কি করবেন সে পরিকল্পনার প্রকাশ্যে এনে মন জয়ের চেষ্টা অব্যাহত রেখে সরব প্রচারণায়। প্রর্দশন করে চলেছে নিজেদের প্রতিক,লিপলেট ও ব্যানার। সচেতন ভোটাররা বলছেন পাহাড়ের রাজনীতি সমতলের তুলনায় আলাদা। এখানে পাহাড়ি ভোটাররা সব সময় একাট্টা ভোটের বিষয়ে। তাই বাঙ্গালী একাধিক প্রার্থী হওয়ায় ভোটের ফলাফল কোন দিকে যাচ্ছে তা অনুমান করা অনেকটা মেঘলা আকাশে চাঁদ দেখার মত বলে মন্তব্য ভোটারদের। 

বিএনপি,স্বতন্ত্র এবং জামায়াত প্রার্থী এবং পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন সমর্থিত প্রার্থীরা কৌশলী প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারেও কঠিন আকার ধারন করেছে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ভোটের মাঠে। তাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশঙ্কায় ভোটারদের। ফলে পাহাড়ি-বাঙ্গালী এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করে স্থানীয়রা। 

খাগড়াছড়িতে প্রচার-প্রচারণায় যেভাবে চলছে: দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে খাগড়াছড়িতে সক্রিয়তা বেঁড়েছে বিএনপি,জামায়াতের। তবে বসে নেই স্বতন্ত্র ও পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোও। কোন কোন দল আবার নীরবে নির্বাচনী জয়ের কৌশলে সরব থাকলেও নীরবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা সমর্থক দেয়া প্রার্থীদের বিজয় আনতে মাঠে সরব তারা। 

সরকার পতনের পর থেকে বিএনপি খাগড়াছড়ির রাজপথে প্রতিনিয়তই মিছিল-শোডাউন করে আগামী নির্বাচনে “উন্নয়ন বোর্ড এর সাবেক চেয়ারম্যান,এমপি এবং খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি,কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে জয়যুক্ত করতে ভোটারদের কাছে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণার পর পাহাড়ের উন্নয়নে বিগত দিনের উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরে দলটির আগামীর লক্ষ নিয়ে ভোট চাইছেন সবখানে।  

বিএনপির একক প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া মন্তব্য করে তার বিকল্প নেই বলে জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমএন আবছার বলেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া পাহাড়ের জনমানুষের আস্থার ঠিকানা, পাহাড়ের উন্নয়নের রূপকার। বিগত দিনের উন্নয়ন বিবেচনায় ভোটাররা ওয়াদুদ ভূইয়াকেই নির্বাচিত করবেন। উৎসব মুখোর পরিবেশ বিএনপি জনগণের দোরগোরাই ভোট চেয়ে ব্যাপক গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। খাগড়াছড়িতে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিকল্প কোন প্রার্থী নেই বলেও তিনি জানান। 

এদিকে ২০০৮ সালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সমীরণ দেওয়ান স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় রাজনীতিতে ভিন্ন এক মেরুকরণের দিকে এগুচ্ছে। এখানে জাতিগত ভোট,পুরাতন ভোটার আর আঞ্চলিকতার প্রশ্নে কি ঘটতে যাচ্ছে সেই প্রশ্ন সবার মনে উকি দিচ্ছে। তবে নির্বাচনের বিষয়ে সমীরণ দেওয়ার পক্ষ থেকে তেমন কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বেশ আলোচনায় রয়েছে সন্তুু লারমাসহ আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন।   

এদিকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকা শান্তি ও ইনসাফের বার্তা নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী নীরবে জনসেবামুলক কার্যক্রম নিয়ে এগুচ্ছে। চাঁদাবাজি,মামলা,হয়রানী,জুলুম,নির্যাতনের বিপরীতে অবস্থানে থেকে ন্যায়ের পথে ভোট চাইছেন ভোটারদের।

২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াত এর পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেন। অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শাসক নয়, সেবক হতে চায়। জনগণ জামায়াতকে জয় যুক্ত করলে রাষ্ট্রের মানুষের অধিকার,ন্যায় বিচার এবং ইনসাফের রাষ্ট্র গঠনে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে কাজ করবেন। একই সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি,অবকাঠামোগত উন্নয়ন,শিক্ষার প্রসার,মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ ভিন্ন ধর্মের মানুষের কৃষ্টি কালচার সংরক্ষণে কাজ করাসহ দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। 

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমার ঘোড়া প্রতিক নিয়ে নীবর প্রচারণা বর্তমানে বেশ সরব হয়ে উঠেছে এরই মধ্যে। বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের আনাচে-কানাচে তিনি নিজের জন্য ভোট প্রার্থণাসহ উন্নয়নের পরিকল্পনা ও পাহাড়ের মানুষের ভাগ্য বদলের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। অপ্রকাশ্য হলেও তার পক্ষেও গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে আঞ্চলিক সংগঠনের সমর্থন দেয়ার বিষয়টি। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক মাওলানা কাউসার আজিজী হাত-পাখা প্রতীকে কর্মী সমর্থক নিয়ে মাঠে নেমেছেন কোমড় বেঁধে। ছুটে চলেছে উপজেলা থেকে শুরু করে গ্রাম ও জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায়। তিনিও ন্যায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ নিজেদের নির্বাচনী ফিরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পরি দিচ্ছেন। 

রকেট প্রতিক নিয়ে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশ্যেপ্রু মারমা খাগড়াছড়িবাসীর জন্য উন্নয়নে টেকশই পরিকল্পনা,বাস্তবায়ন ও স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ পার্বত্য জনপদে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতির উন্নয়নে কাজ করা জরুরী বলে মনে করেন। তিনি জানান, মুখের কথায় নয় কাজে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পার্বত্য জনগোষ্ঠির আত্ম-নির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যার জন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নে আন্তরিকতা জরুরী বলে তিনি মত দেন। 

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে খাগড়াছড়ির সাধারন ভোটারদের শান্তিপূর্ণ বসবাস,নিরাপত্তা,অনিয়ম-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যাবস্থা গঠন এবং নিজেদের মৌলিক অধিকারের বাস্তবায়নসহ পার্বত্য জনপদের মানুষের ভাগ্যবদলের প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ভোটের মাঠে।  

এতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. আনোয়ার সাদাত ও জেলা নির্বাচন অফিসার এস. এম শাহাদাত হোসেন ও খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোস্তফা জাবেদ কায়সার নির্বাচন সুষ্ঠ করতে নানা উদ্যোগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশসহ অন্যান্য প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ করছেন বলে জানান।  

জানা যায়, খাগড়াছড়ির ৩ পৌরসভা, ৯ উপজেলা ও ৩৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ২৯৮নং খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮০ হাজার ২০৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ  ৪ জন ভোটার রয়েছে খাগড়াছড়ি আসনে। খাগড়াছড়ি জেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০৩ টি। 

এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০৩টি: তার মধ্যে দূর্গম ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩টি। হেলিসার্টি ব্যবহার মধ্যে ৩ কেন্দ্রে। এতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮টি কেন্দ্র,ঝুঁকিপূর্ণ ১২১টি এবং সাধারন হিসিবে চিহিৃত করা হয়েছে ১৪টি ভোট কেন্দ্রকে। 

যে তিনটি কেন্দ্রে হেলিসার্টি ব্যবহার হবে: দীঘিনালার বাবুছড়া ইউপির দেওয়ানপাড়ার নারাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লক্ষীছড়ি উপজেলাধীন লক্ষীছড়ির ইউপির শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও  বর্মাছড়ি ইউপির ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে-সীমান্তবর্তী ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০টি: তার মধ্যে-দীঘিনালায় ১টি, পানছড়িতে ৩টি, রামগড়ে ৭টি এবং মাটিরাঙায় ৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
আজকালের খবর/এআরজে







আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft