প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২২ পিএম

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বাড়ি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর (২৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোটচাঁদপুর বাজার পাড়ার হাইস্কুল সড়কের নিজ কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অনন্য গাঙ্গুলী ওই এলাকার সাবেক প্রভাষক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলীর ছেলে। তার মা রাধা রানী গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনন্য শনিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন। রাতে খাবার খেয়ে তিনি নিজের ঘরে ঘুমানোর জন্য যান। রোববার সকাল ৮টার দিকে তার মা নাস্তা খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে কোনও সাড়া না পেয়ে জানলা দিয়ে উঁকি দেন। এ সময় অনন্যকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠায়।
অনন্য গাঙ্গুলী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসিতে মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি বৃত্তি লাভ করেন। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি যশোর বোর্ড থেকে সাধারণ বৃত্তি পান। দীর্ঘ প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
তবে কলেজে পড়ার সময় শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় পাঁচ বছর তিনি পড়াশোনা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
অনন্যের মা রাধা রানী গাঙ্গুলি বলেন, সে বাড়ি আসার পর আগের মতোই আচারণ করেছে। আমার সঙ্গে কোনও দিন কোনও বিষয় নিয়ে মন খারাপের ঘটনা ঘটেনি। তবে কেন সে এ ধরনের ঘটনা ঘটাল বুঝতে পারছি না। অনন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর স্বজনদের সহায়তায় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানানো সম্ভব হবে।
আজকালের খবর/বিএস