বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে গোটা দেশের মানুষ। বাইরে নন তারকা শিল্পীরাও। বিশেষ করে দেশের শীর্ষ তারকারাও শোক প্রকাশ করছেন তাদের সামাজিকমাধ্যমে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক শোকবার্তায় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রান। এছাড়া শীর্ষ নায়ক শাকিব খান গভীর সমবেদনা জানান।
সোহেল রানা নিজের ভেরিফাইড পেজে একটি পোস্ট শেয়ার দেন। তাতে তিনি লিখেন- ‘একটা সোনালী রাজনৈতিক জীবনের অবসান হল। আপসহীন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার ভালোবাসার দেশ এবং মানুষগুলোকে ছেড়ে অনন্তের পথে যাত্রা করলেন সারা দেশকে কাঁদিয়ে। মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে বেহেস্ত নসিব করুন এবং তার শোকাহত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার সামর্থ্য দিন।’
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মুঠোফোনে তারেক রহমান ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দেশবরেণ্য সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান। তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন- ‘সত্যিই এই মৃত্যু বেদনার। অন্য সকলের মতো একজন শিল্পী হিসেবে আমাকেও ছুঁয়ে গেছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন একাধিকবার তাদের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি রয়েছে। ওই সময় তরুন তারেক রহমানকেও মনে পড়ে। আমরা একসঙ্গে কয়েকটি প্রজেক্ট করেছিলাম। আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রতীর মৃত্যুতে এসবই আমার স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ছে। আমি দোয়া করি আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাত দান করুন। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
বুয়েটে পড়াকালীন লেখক, তথ্যচিত্র নির্মাতা ও স্থপতি শাকুর মজিদের ক্যামেরায় তোলা সদ্য প্রয়াত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্থিরচিত্র। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।
বেগম খালেদা জিয়ার একটি ছবি শেয়ার করে স্থপতি, নাট্যকার ও তথ্যচিত্র নির্মাতা শাকুর মজিদ একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি অতীতের স্মৃতি রোমনস্থন করে লিখেন- ‘বেগম খালেদা জিয়ার একটি মাত্র ছবি আমি জীবনে তুলেছিলাম, এবং একবারই তাঁকে কাছে থেকে দেখেছিলাম। ঘটনা ১৯৯২ সালে। বুয়েটের সমাবর্তন। এই সমাবর্তনে তিনি প্রথম বারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হোন (ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে রাস্ট্রপতিকে আচার্য থেকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আচার্য করা হয়েছিলো)। পাশে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক শাহ জাহান। এই ছবি তোলার সুযোগ হয়েছিল দুইটা কারণে। বুয়েটে আমাদের একটা ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ছিল। এডিপিএস। আমরা উপাচার্যের কাছ থেকে অনুমতি নিলাম যে সমাবর্তিতদের পোর্টেট তুলে দেব এবং এর জন্য আমরা খরচ বাদে প্রতি ছবির জন্য ৫০টাকা করে নিব। আমরা ৩৫ হাজার টাকার ফান্ড উঠিয়েছিলাম এই অনুষ্ঠানে। আর প্রধানমন্তীর কাছে যাওয়ার আলাদা একটা পাস ছিলো আমার, বুয়েট সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসাবে। এই ছবিটা আজ বের করলাম পুরানা নিগেটিভ থেকে। আজ খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করা হলো। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।’
খালেদা জিয়ার একটি সাদাকালো ছবি শেয়ার করে শাকিব খান লিখেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’
বিনোদন জগতের বেশিরভাগ শিল্পী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- পরিচালক শাহ আলম কিরণ, মালেক আফসারী, বদিউল আলম খোকন, প্রযোজক সামসুল আলম, চিত্রনায়িকা মুনমুন, অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী, আঞ্জুনমান আরা বকুল, নুসরাত ফারিয়া, আজমেরী হক বাঁধন, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, সিয়াম আহমেদ, আশফাক নিপুন, রেদওয়ান রনি প্রমুখ। এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, ডিরেক্টর গিল্ড সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।
শোক প্রকাশ করে নগরবাউল জেমস ফেসবুকে লেখেন, ‘শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা, বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত করেন আমিন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
এদিকে মাইলস কর্তা ও বামবা প্রধান হামিন আহমেদ লিখেছেন, ‘একটি যুগের অবসান। চারদিকে ষড়যন্ত্রকারী এবং দুষ্ট লোকে ভরা সেই যুগে মাননীয়া বেগম খালেদা জিয়া সততা, দেশপ্রেম এবং সংকল্পে সবচেয়ে উঁচুতে ছিলেন। গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা। আল্লাহ (সুবহানাল্লাহ তায়ালা) তার আত্মাকে জান্নাত নসিব করুন।’
শক্তিমান অভিনেতা শিবা শানু বেগম খালেদা জিয়ার শোকের একটি সাদাকালো ছবি পোস্ট করে লিখেন- ‘আপনি চলে গেলেও আপনার অধিক কিছু রয়ে যাবে আপনার না থাকা জুড়ে। ওপারে ভালো থাকবেন মা, আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসি করুন আমিন।’
বলা দরকার, গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ভোর ৬টা নাগাদ তার প্রয়াণ ঘটে।
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা এই নন্দিত নারী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন মেয়াদে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৬০ সালে সেনাপ্রধান ও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ফার্স্টলেডি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে তার পদচারণা ছিল দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল।