সুফল থেকে বঞ্চিত শহরবাসী
৮বছর পার হলেও শেষ হয়নি ড্রেন নির্মাণ কাজ
এ.এইচ.এম শামিম রহমান জন, পাংশা (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৪৪ পিএম
রাজবাড়ীতে কাজে আসছে না ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রেন। মূলত আঞ্চলিক মহাসড়কের পানিসহ শহরের পানি নিস্কাশনের জন্য এই নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ড্রেনের বেশিরভাগ অংশ ভরে গেছে ময়লা-আবর্জনা ও পলিথিনে। কোথাও কোথাও আবার ভেঙে পড়েছে দেয়াল। ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ২০১৭ সালে। দীর্ঘ ৮ বছর পার হলেও ড্রেনের কাজ শেষ হয়েছে অর্ধেক। নির্মাণকাজের অনেক স্থানেই বসানো হয়নি স্ল্যাব। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

ড্রেন দিয়ে পানি প্রবাহিত না হওয়ার কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। তেমনি মহাসড়কের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

তথ্য অধিকারে আবেদন সাপেক্ষে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানিয়েছে, জেলা শহরের শ্রীপুর বাস টার্মিনাল থেকে চরলক্ষ্মীপুর আহম্মদ আলী মৃধা কলেজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। সাথে যোগ করা হয় দু’পাশে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ। ড্রেনটির প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ড্রেনটির নির্মাণকাজ ৫৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পাদক করতে না পারায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে জারিমানাসহ কাজটি টার্মিনেট করা হয়েছে। ড্রেন নির্মাণে ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

সরেজমিনে শহরের শ্রীপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় দেখা যায়, ড্রেনের ভেতর ময়লা আবর্জনা ভর্তি রয়েছে। সড়কের পানি ড্রেন দিয়ে রাস্তার ওপর চলে আসছে। শ্রীপুর এলাকায় বেশ কিছু দোকানের মধ্যে ড্রেনের পানি প্রবেশ করছে। জেলখানার সামনে বেশিরভাগ স্থানে ড্রেনের স্ল্যাব নেই। লতা পাতায় বিভিন্ন স্থান ছেয়ে গেছে। বিভিন্ন দোকানগুলোর সামনে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠের মাচা তৈরি করে ড্রেন পার হচ্ছে। ড্রেনের অনেক জায়গায় লোহার রড বের হয়ে আছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা বলেন, এইপ্রকল্প আওয়ামী লীগের সময় নেওয়া হয়েছিল। এটি একটি ভুল প্রকল্প ছিল। ড্রেনের পানি কোথায় যাবে সেই পরিকল্পনা তখন থেকেই করা হয়নি। এই পরিকল্পনা থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তৎকালীন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। খাতা কলমে সড়কের অর্ধেক কাজ শেষ দেখিয়েছেন কর্মকর্তারা। বাস্তাবে কাজ হয়েছে অনেক কম। প্রকল্পের নামে লুটপাট করেছেন সরকার। এগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

শহরের জেলখানা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আমরা ড্রেনের বিষয় নিয়ে সড়ক বিভাগে গিয়ে অভিযোগ করি। তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। মাঝে মাঝেই ড্রেনের ভেতর পথচারীরা পড়ে আহত হয়। ড্রেনের যেটুক কাজ হয়েছে তার ওপর স্ল্যাব দেওয়া উচিত।

রাজবাড়ীর নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শঙ্কর ঝন্টু বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে কিছু কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। ড্রেনের অবকাঠামো অকেজো হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে প্রতিদিন নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছে। রাষ্ট্রের কোটি টাকা অপচয়ে যেসব কর্মকর্তারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। আমরা ধারণা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ড্রেনটি রাজবাড়ীর ব্যর্থ প্রকল্পের দৃষ্টন্ত হয়ে থাকেব।

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজস খান বলেন, রাজবাড়ী- কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাড়কের পাশে যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তার কাজ বাকি রয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবো।

আজকালের খবর/ওআর








http://ajkalerkhobor.net/ad/1751440178.gif
সর্বশেষ সংবাদ
ফোন করে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি
গাজা সংঘাতে ৯০০ ইসরায়েলি সেনা নিহত
শি-পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মোদি
মতিঝিলে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা
রাশিয়া-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: পুতিন
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
জাকসু নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্টের 'সংশপ্তক' প্যানেল ঘোষণা
আহত নুরকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান
লাইট হাউজের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৫ অনুষ্ঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা
বাংলাদেশের সংবিধানে পিআর নামক কোনো শব্দ নাই: সালাহউদ্দিন আহমদ
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft