
নন-ডিসক্লোজার চুক্তিতে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা
চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে ৫০ লাখ শ্রমিক
৪০ বছরে এমন সংকটে পড়েনি ব্যবসায়ীরা
যুক্তরাষ্ট্র গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের জন্য পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। যা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। এই শুল্কহার যদি শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে, তাহলে ভয়ানক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে দেশের রপ্তানি খাত। এতে অর্থনীতির যেমন ক্ষতি হবে, তেমনি কাজ হারাবে ৫০ লাখ শ্রমিক। শুল্ক কমানোর জন্য নন-ডিসক্লোজার কিছু চুক্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই চুক্তিতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দেশের ব্যবসায়ীরা গত ৪০ বছরে এমন সংকটে কখনো পড়েনি। এদিকে শুল্ক কমানো নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে সরকার। দুই দফায় আলোচনায় বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে একমত হলেও বাণিজ্যের বাইরের বিষয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দর-কষাকষি আটকে আছে বলে সূত্র জানায়। এর মধ্যে এমন কিছু স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশের জন্য মানা খুব কঠিন। এ কারণে বাণিজ্যের বাইরেও জটিল শর্তের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এদিকে ঠিক কী কী শর্ত- তা প্রকাশ করছে না সরকার। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই আরেক দফা (তৃতীয়) আলোচনা করবে বাংলাদেশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের (গোপনীয় চুক্তি) কারণে দর-কষাকষি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বাণিজ্যের বাইরেও এখন এ শুল্ক চুক্তিতে অনেক বিষয় রয়েছে। সেগুলো কঠিন। ফলে সরকার একটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাল্টা শুল্ক যদি ৩৫ শতাংশ থাকে, তবে খাতভিত্তিক শুল্ক যোগ করে এটি কোনো কোনো খাতে ৫৫ শতাংশের বেশি হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকার পণ্য রপ্তানিতে ৫৫ টাকা শুল্কই দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। তারা বলছেন, সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় পোশাক খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ শতাংশ শুল্কে রপ্তানির চুক্তি করেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পর বড় প্রতিযোগী ভিয়েতনাম। অপরদিকে ইন্দোনেশিয়াও আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে দেনদরবার ও দর-কষাকষি করে শুল্কহার কমাতে না পারলে দেশের তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলো বড় সংকটে পড়বে। সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। মার্কিন প্রশাসনও আলোচনার দুয়ার খোলা রেখেছে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে চিঠি এলেও এটিকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এটি ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। অর্থাৎ, সরকার এখনো আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক কমানোর বা সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ খুঁজছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কারোপের পুরো প্রক্রিয়াই একটি অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেনি। আবার যুক্তরাষ্ট্রও ন্যায্য আচরণ করেনি। তিনি বলেন, এখনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সুযোগ কতটা বাস্তব হবে তা বলা কঠিন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বিজিএমইএর পক্ষ থেকে অনেক আগেই লবিস্ট নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার উদ্যোগ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাজারে শুধু সরকারি প্রতিনিধি পাঠিয়ে দর-কষাকষিতে সফল হওয়া কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কোনো বাণিজ্যিক ছাড় পায় না, যেখানে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশ কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছাড় আদায় করেছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্দোনেশিয়ার ওপরও প্রথমে ৩২ শতাংশ শুল্কারোপ করার পর সম্প্রতি তা কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া, প্রতিযোগী ভারতের উপর আরোপিত শুল্ক হারও ২৬ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশের নিচে নামতে পারে ভারতে অবস্থানরত ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের থেকে ধারণা পেয়েছে দেশটি।
একটি ইউরোপীয় পোশাক ব্র্যান্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যদি বাংলাদেশের এ শুল্ক ইস্যুর সমাধান না হয়, তাহলে বাংলাদেশে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা হারাবে। তারা হয়তো বিকল্প উৎস বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। বর্তমানে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে সরাসরি ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছে এবং আরো ১০ লাখ কর্মসংস্থান রয়েছে সংশ্লিষ্ট খাতে। শিল্প নেতারা বলছেন, যদি অর্ডার কমে যায়, তাহলে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ১০ লাখের বেশি চাকরি হারাতে পারে।
ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, লেভিস, আমেরিকান ঈগল ও সিঅ্যান্ডএসহ বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য কেনে। বর্তমানে তারা ভবিষ্যৎ অর্ডার নিয়ে পুনর্বিবেচনায় আছে। অনেক বায়িং হাউস এরই মধ্যে কারখানাগুলোকে উৎপাদন ও চালান স্থগিত করতে বলেছে।
তৈরি পোশাক কারখানার মালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শেষ পর্যন্ত যদি ৩৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক বহাল থাকে, তবে আমাদের পোশাক খাতে শুল্ক ৫০ শতাংশের বেশি হবে। কারণ পাল্টা শুল্ক আরোপের আগে বাংলাদেশ থেকে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে হতো। এটা আমাদের রপ্তানিকে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দেবে। ভিয়েতনাম, ভারতসহ প্রতিযোগী দেশগুলো আমাদের বাজার দখল করে নিতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে মাহমুদ হাসান আরো বলেন, যদি আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চাই, তবে আমাদের পণ্যের দাম কমাতে হবে। আর দাম কমালে কারখানাগুলো লোকসানে পড়বে। এতে দেশের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি কেবল একটি বাণিজ্য সংকট নয়, এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা। যথাসময়ে সরকার হস্তক্ষেপ না করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হারাবে বাংলাদেশ, যা পুনরুদ্ধারে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে এবং ৫০ লক্ষাধিক চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে।
জানা গেছে, স্প্যারো গ্রুপ বছরে ৩০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যার অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে ৪০ কোটি টাকার বেশি মজুরি দেয়। এ বিষয়ে স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, এটি কেবল একটি বাণিজ্য বিষয় নয়, এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা। যারা ভাবছেন কেবল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পোশাক পণ্যে প্রভাব পড়বে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। বড় ক্রেতারা এক দেশ থেকে একাধিক বাজারের জন্য পণ্য নেয়; ফলে এ প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে। শোভন ইসলাম বলেন, এই বাজার ভেঙে পড়লে আমরা দুই মাসও টিকে থাকতে পারব না।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদ বলেন, আমার ৪০ বছরের ব্যবসা জীবনে এমন সংকট আর আসেনি। একে আজাদ বলেন, আমরা যাদের কাছে রপ্তানি করি, এমন বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চলমান ট্যারিফ নেগোসিয়েশনের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে এবং লবিং করছে। তারা আমাদেরকে জানিয়েছে, তোমরা (বাংলাদেশ) ভালো রেজাল্ট পাবে বলে মনে হচ্ছে না। একে আজাদ আরো বলেন, আমরা যখন সরকারের সঙ্গে কথা বললাম, লবিস্ট নিয়োগ করার জন্য বললাম, প্রধান উপদেষ্টার অফিসে মেসেজ পাঠালাম, আমাদেরকে এক পর্যায়ে বলা হলো ৯৫ শতাংশ সমাধান হয়ে গেছে।
গতকাল রবিবার আমাকে একটা ব্র্যান্ডের এর পক্ষ থেকে মেইল পাঠানো হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, আগামী ১ তারিখ থেকে যে প্রোডাক্ট তৈরি করা হবে, সেখানে নতুন ট্যারিফ থাকলে আমি (সরবরাহকারী) কত শতাংশ শেয়ার করব, সেটি তাকে জানানোর জন্য। তিনি আরো বলেন, ওই ক্রেতার কাছে আমার রপ্তানি ৮০ মিলিয়ন ডলার। সেখানে আমি ইনকাম করি ১.৩৭ মিলিয়ন ডলার। ৮০ মিলিয়ন ডলার থেকে যদি ৩৫ শতাংশ শেয়ার করি, তাহলে আমার কী থাকবে? সরকারের উদ্দেশে একে আজাদ বলেন, সাত-আট মাস পরে আপনারা চলে যাবেন, আমরা কোথায় যাব? আমাদেরকে কার কাছে ফেলে যাবেন? এ সময় কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, সবার ধারণা, মাথার ওপর একজন আছেন তিনি ফুঁ দেবেন, আর সমাধান হয়ে যাবে।
জানাগেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ করার মতো শর্তের আভাস। যে বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ যাতে চীনের দিকে বেশি না ঝোঁকে।
কিছু শর্ত এমন রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তবে বাংলাদেশকেও তা মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকেও ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। তাছাড়া যেসব মার্কিন পণ্যকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশকে একই সুবিধা না দেওয়ার শর্ত রয়েছে। একদম সুনির্দিষ্ট না হওয়া গেলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, জ্বালানি, খাদ্যশস্য ও সামরিক পণ্য আমদানিতে নানা সুবিধা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ দেশের বেশ কিছু শিল্প, বন্দর পরিচালনা ও প্রযুক্তি পণ্যে অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও রয়েছে শর্তের মধ্যে। বাংলাদেশের সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, কৃষি, মোটরগাড়ি ও যন্ত্রাংশ ব্যবসায় নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার বা অশুল্ক বাধা দূর করতে শর্ত দিয়েছে। যেটুকু বোঝা যাচ্ছে, শুল্ক ইস্যুটি এখন সরকারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অনেক বিষয় সরকার ডিসক্লোজ (প্রকাশ) করতে পারছে না। এ দেশে মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়ন, সেবাখাতের কোম্পানিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক রি-ইন্স্যুরেন্সের বিধান, মার্কিন ফার্মগুলোর সব পাওনা পরিশোধ-মালিকানা সংক্রান্ত বাধা দূর করার শর্তও রয়েছে। চলমান শুল্ক জটিলতা নিয়ে এর আগে বৈঠক করা হয়েছে দেশের অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া এবং শর্তগুলো কী তা জানতে চাইলে ‘নন-ডিসক্লোজার’ ইস্যু তুলে এ বিষয়ে তাদেরও কিছু বলেননি বাণিজ্য উপদেষ্টা।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে দেশের রপ্তানি খাত ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানি গন্তব্য হওয়ায়, এই শুল্কের প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান হ্রাস ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুল্ক বাড়লে শুধু রপ্তানি কমে যাওয়ার সমস্যাই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারপরও এখনো আশাবাদী দেশের রপ্তানিকারকেরা। তারা বলছেন, যেহেতু আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত সময় রয়েছে। সরকার এর মধ্যে আলোচনা করে শুল্ক কমিয়ে আনবে বলেই প্রত্যাশা করছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমরা যেটুকু বুঝতে পারছি, শুল্ক ইস্যুটি এখন সরকারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অনেক বিষয় সরকার ডিসক্লোজ (প্রকাশ) করতে পারছে না। তবে যেটা উঠে এসেছে, সরকার দেশ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নানা শর্ত দিচ্ছে, যেগুলো বাংলাদেশের জন্য কঠিন। যদিও তাদের সঙ্গেই আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছেন, বিষয়টি জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সঠিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল নিতে না পারলে দেশের রপ্তানি, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
আজকালের খবর/ এমকে