ফরিদপুর জেলায় দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কাটিয়ে কিছুটা স্বস্তির আভাস দিচ্ছে হাম (মিজলস) পরিস্থিতি। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
একই সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও শিশুদের টিকাদান ও বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুরে মোট ৩ হাজার ৫২৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯৯৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ৪০৩ জন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৭১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৭ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৪ জন ভর্তি আছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী যেমন ভর্তি হননি, তেমনি কোনো রোগীকে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়নি।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে র্যাশ বা গুটি ওঠা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এ বিষয়ে বলেন, "গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত না হওয়াটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। তবে এখনই আমাদের আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিভাবকদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ‘হাম-রুবেলা’ টিকা নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি আরও পরামর্শ দেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর বা শরীরে লালচে র্যাশের মতো কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব