সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে বেপরোয়া তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এবার শফিকুল ইসলাম নামে এক অসহায় কৃষককে বেধড়ক পেটানোর পর মৃত ভেবে সড়কে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে দেবাড়িয়া ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
কৃষক শফিকুল ইসলাম দেবাড়িয়া গ্রামের রশিদ গাজীর ছেলে। হামলাকারীরা একই গ্রামের মেহেদী হাসান, মাসুদ, ইমরান হোসেন, কাদের, মাহাবুবসহ গ্রুপে ১০-১২ জন।
শফিকুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, ইতিপূর্বে এই সন্ত্রাসী চক্র শফিকুল ইসলামের আড়াই বিঘা মাছের ঘের দখল করে নিয়েছে। নিরিহ শফিকুল অসহায় হওয়ায় ঐ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল।
এর আগেও একাধিকবার মারপিট ও খুন জখমের হুমকি ধামকির প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১০৭/১৭ (গ) ধারায় একটি মামলাও করেন শফিকুল।
আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরে আসামিরা আদালতে মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পান। পরবর্তীতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চক্রটি। আদালত থেকে মুচলেকা দেওয়ার কয়েকদিন পর প্রথম দফায় শফিকুলকে মারপিট করে তারা।
পরবর্তীতে পূর্ব বিরোধের জেরে শনিবারও বেধড়ক মারপিট করে মৃত ভেবে সড়কে ফেলে রেখে যায়, ছিনিয়ে নিয়ে যায় সঙ্গে থাকা মোবাইলও। পরে স্থানীয়রা পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, শফিকুলকে সন্ত্রাসীরা মারপিট করার সময় টেকাতে গেলে তার বাবা রশিদ গাজী, মা ফতেমা বেগম ও চাচা মজিদকেও মারপিট করে সন্ত্রাসীরা।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির একটি প্রভাবশালী চক্র এই সন্ত্রাসী বাহিনীর ইন্দনদাতা হিসেবে কাজ করছে।
হামলাকারীদের একজন মাহাবুর মারপিটের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, একটু হাতাহাতি হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মারপিটের ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজকালের খবর/বিএস