গাইবান্ধার ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদে প্রকাশ্য দিবালোকে নৌ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল নৌকার চালক ও যাত্রীদের পিস্তল ও ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও নারী যাত্রীর ব্যাগ।এসময় ব্র্যাক এনজিওর দুই কর্মকর্তার কাছ থেকে লুট করে নেওয়া হয় প্রায় ৮ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ডাকাতির সংবাদটি স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পারেন।
দুপুরে উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কাঁটাতারা থেকে ফজলুপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর ঘাটের খেয়া নৌকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ডাকাতের কবলে পড়া ব্র্যাক এনজিওর দুই কর্মকর্তা হলেন সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক নিরঞ্জন চন্দ্র রায় এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার (সিডিও) রাকিবুল হাসান।
ওই নৌকায় ১০/১২ জন যাত্রী ছিলেন।
সূত্র জানায়, দুপুরে ফজলুপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর চরের খেয়া ঘাট থেকে সাইদুর রহমান নামের এক নৌকা চালক নৌকা ছাড়েন। নৌকাটি ছাড়ার আধা ঘণ্টা পরই ডাকাতদের কবলে পড়ে। ডাকাতরা যাত্রীদের পিস্তল ও ধারালো নানা অস্ত্র ধরে ব্র্যাকের দুই এনজিওকর্মীর থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা, তিন নারী যাত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ, দুটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
চালক সাইদুর বলেন, একটি ছোট নৌকায় ৮-১০ জনের ডাকাত দল এ হানা দেয়। তারা তার কাছ থেকেও নৌকা ভাড়া কালেকশনের টাকা এবং এক মহিলার হাতে থাকা ১০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। তিনি বলেন, ডাকাতদের মুখ ঢাকা ছিল, তাদেরকে চেনা যায়নি।
নৌকার যাত্রী ও কাবিলপুর বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী বলেন, দুজন ডাকাত তাদের নৌকায় বসে পিস্তল তাক করে ছিল। তারা নৌকাযাত্রী তার মামাতো বোন জান্নাতির ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী তার বোনের অ্যাডমিট কার্ড ওই ব্যাগে ছিল।
এ ব্যাপারে ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর (ক্ষুদ্র ঋণ) মোশাররফ হোসেন বলেন, ফজলুপুর ইউনিয়নে বৃহস্পতিবারের মাসিক কালেকশনে করে ব্র্যাকের ৬ জন স্টাফ। তাদের মধ্যে ব্র্যাকের সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক নিরঞ্জন চন্দ্র রায় এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার (সিডিও) রাকিব হাসান ওই সময় পর্যন্ত সকালের কালেকশনের ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা করার জন্য রওনা হন। বাকি সদস্যরা কালেকশন শেষ করে পরে আসতেন। কিন্তু নৌকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতরা তাদের পুরো টাকা লুট করে নেয়। তিনি বলেন, ব্র্যাকের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তারা ফুলছড়ি থানায় উপস্থিত হয়েছেন।
ফজলুপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম খাঁ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা রাত ১০টার দিকে বলেন, ভুক্তভোগীরা থানায় এসেছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে শুনেছি, তাদের কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ ঢাকা লুটে নিয়েছে ডাকাতরা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/এমকে