হারাধনের দশটি ছেলে ঘোরে পাড়াময়, একটি কোথা হারিয়ে গেল রইল বাকি নয়- যোগীন্দ্রনাথ সরকারের এই ছড়ার মতোই ঢাকাই সিনেমার তারকাদের। একে একে চলে যাচ্ছেন এক সময়ের সব তারকাখ্যাতি পাওয়া অভিনয়শিল্পীরা। অল্প দু-চারজন যারা আছেন রাজনৈতিক ব্যবচ্ছেদে তারাও নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন।
সব হারিয়ে এখন আমাদের অল্প ক’জন সবেধন নীল মণি রয়েছেন যাদের দেখামিলে কালেভদ্রে কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষে। তেমনি এক উপলক্ষে এক হয়েছিলেন অনেকটা কাকতলীয়ভাবে বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরসৈনিক, ছাত্রনেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা খসরু। বাইপাস সার্জারি হওয়ায় এই অভিনেতা খুব কম বের হন। বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া তার দেখা পাওয়া দুরূহ। গত ৩ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করতে এসেছিলেন চিরচেনা এফডিসিতে। দুপুরের পর এদিন ভোট প্রয়োগ করতে এসেছিলেন দুই বরেণ্য অভিনেতা রাজনীতিক আশরাফ উদ্দিন উজ্জল এবং অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক আলমগীর। খসরু শিল্পী সমিতির অফিসে ঢুকতেই আগে থেকেই বসে থাকা আলমগীর দাঁড়িয়ে তাকে বসার জন্য অনুরোধ করেন। জানা গেছে, হুট করেই তারা এসেছিলেন শিল্পী সমিতির অভ্যন্তরে। আর তখনই তিনজনে মুখোমুখি দেখা। দেলোয়ার জাহান ঝন্টুসহ অনেক সিনিয়ররা এসেছিলেন তাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ে। তুলেছেন ছবিও। যে ছবিতে সিনেমার সোনালী ঐতিহ্যে মোড়ানো হারাদনের শেষ সম্বলের প্রতীক। তাদের একসঙ্গে করে কোনে গণমাধ্যমই একটি ফুটেজ প্রকাশ করতে পারেনি, কেবল আইজ অন নামের একটি মাধ্যম মুহূর্তটি ক্যামারাবন্দি করতে পেরেছে। এ দৈন্যদশার কারণ হিসেবে ফুটে উঠেছে চটুল, ভিউনির্ভরতা, অপেশাদার আচরণ, সিনেমা ইতিহাসে অজ্ঞানদের সাংবাদিকতা। পরে অবশ্য অভিনেত্রী ও প্রযোজক কাবেরী দের একটি গ্রুপ ফটো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াতে দেখা গেছে। তাতে সোস্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের ইতিবাচক কমেন্টের সঙ্গে অনেকেই তাদের সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন প্রত্যাশা করেছেন। এদিন বীমুক্তিযোদ্ধা অভিনেতা সোহেল রানা ভোট প্রয়োগে এলেও তাদের পরস্পরের সাক্ষাৎ হয়নি। এলে হয়তো এই এই ফ্রেমটা অতিউচ্চমূল্যে সিনেমা ইতিহাসের পাতায় স্থান পেতো।
তবে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ের কারণে অনেক বরণ্যেকে একফ্রেমে আনা যায় না বলেও অনেকে মনে করেন। এ অবস্থার উন্নতি না হলে হয়তো আর কোনোদিন এমন ফ্রেম দেখা যাবে না।
আজকালের খবর/আতে