নীলফামারীর ডিমলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, ভুল মিটার রিডিং, নষ্ট মিটারের নামে বিল আদায় এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও বিদ্যুৎ বিল প্রদানের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন হাজারো গ্রাহক। দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ডিমলা পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কয়েক হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক ডিমলা পল্লী বিদ্যুতের সাব-এলাকা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় অতিরিক্ত বিল প্রত্যাহার, ভুল মিটার রিডিং সংশোধন এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও বিলে কয়েকগুণ বেশি ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সংযোগ বন্ধ কিংবা মিটার নষ্ট থাকলেও নিয়মিত বিল আদায় করা হচ্ছে।
ডিমলা সদর ইউনিয়নের নটাবাড়ি গ্রামের মশিয়ার রহমান (৫৫) অভিযোগ করে বলেন, তার সেচ সংযোগের হিসাব নম্বর ১২৯/৮১১০ গত দুই মাস ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কিন্তু সংযোগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তাকে ২ হাজার ৯৬৬ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একই ইউনিয়নের গ্রাহক মমিনুর রহমান বলেন, তার মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুতের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি বিল করা হয়েছে। অফিসে অভিযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাননি।
নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের রশিদুল ইসলাম জানান, তার মিটারের বর্তমান রিডিং ৮৩৭ ইউনিট হলেও বিলে ১১৯২ ইউনিট দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে রামডাঙ্গা গ্রামের নুর ইসলাম অভিযোগ করেন, ছয় মাস আগে তার আবাসিক সংযোগের মিটার নষ্ট হয়ে যায়। নতুন মিটারের জন্য আবেদন করলেও এখনও পাননি। সংযোগ কার্যত বন্ধ থাকার পরও নিয়মিত বিল তৈরি হচ্ছে। সর্বশেষ বিলেও ৬০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে।
এছাড়া আরও একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, হিসাব নম্বর ১২/১৫/১০২-এ বিলের কাগজে ৮২৬ টাকা উল্লেখ থাকলেও মোবাইলে এসএমএসে ৯৬০ টাকা পরিশোধের বার্তা পাঠানো হয়েছে।
বালাপাড়া দক্ষিন সুন্দর খাতা জয়নাল আবেদীন বলেন, হিসাব নং ১৮৫/১৫০০,অফিসে গেলে অতিরিক্ত বিল ১৪২৫ টাকা এরপর অফিসে যোগাযোগ করলে সেই বিল ৬৪৮ টাকা জমা নেন। এভাবেই ডিমলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস অতিরিক্ত বিল হাতিয়ে নিচ্ছে ইতিপূর্বে থেকে এইভাবে অনেক টাকা তারা নিয়েছেন এতে আমার বড় ধরনের ক্ষতি সাধন হয়েছে।
গ্রাহকদের দাবি, এভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।
বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রতিকার পেতে অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান পাচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে ডিমলা পল্লী বিদ্যুতের এরিয়া ম্যানেজার (এজিএম) মো. মাসুদ আলম বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে মিটার রিডিংরা যথাযথভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে বিল প্রস্তুতের সময় কিছু ত্রুটি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে সংশোধিত বিল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডিমলা সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রায় ৭৭ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৬৫ হাজার ১২৭ জন, বাণিজ্যিক ৫ হাজার ২১৪ জন, সেচ সংযোগ ৩ হাজার ৫৯১টি, মিল-চাতাল সংযোগ ৬৯৬টি এবং মসজিদ-মন্দিরসহ অন্যান্য সংযোগ রয়েছে ১ হাজার ১৬৯টি।
এদিকে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোর্ডের এলাকা পরিচালক প্রভাষক সাজেদুল ইসলাম লিটন বর্তমান এজিএম ও বিলিং কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে বলেন, দায়িত্ব পালনে অনিয়মের কারণে হাজারো গ্রাহক সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে সমিতির জেনারেল ম্যানেজারকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শেখ মনোয়ার মোরশেদ বলেন, আমি তো বিল করিনা অনিয়ম হয়ে থাকলে অফিসে যোগাযোগ করেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড় করে পত্রিকায় ফলোআপ দিয়েন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দ্রুত সংশোধিত বিল প্রদান করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আজকালের খবর/বিএস