মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য আরও সহজ, নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী রেমিট্যান্স ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম সম্প্রতি ব্যাংক অব মালদ্বীপের (বিএমএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শরীফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং দুই দেশের ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ চ্যানেলে আরও সহজে ও দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা উন্নত করা। এ লক্ষ্যে মালদ্বীপের মুদ্রা রুফিয়া (এমভিআর) এবং বাংলাদেশের টাকা (বিডিটি)-এর মধ্যে সরাসরি আর্থিক লেনদেন ও রেমিট্যান্স প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ।
ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তিনি প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী রেমিট্যান্স সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি হলে প্রবাসীরা কম খরচে ও কম সময়ে অধিক নিরাপত্তার সঙ্গে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন। এতে বৈধ আর্থিক প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সম্ভাব্য ঋণসুবিধা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষের মতে, ভবিষ্যতে উপযুক্ত আর্থিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে উঠলে তা দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দেবে।
ব্যাংক অব মালদ্বীপের সিইও মোহাম্মদ শরীফ বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তাদের জন্য কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য বিভিন্ন বিকল্প ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ প্রবাসী কল্যাণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তরিক ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে আর্থিক সহযোগিতা, ব্যাংকিং সংযোগ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
আজকালের খবর/ এমকে