
অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ পর্দার বাইরে মঞ্চেও কাজ করছেন নিয়মিত। রেজা আরিফের নির্দেশনায় অভিনয় করছেন আরশিনগরের প্রযোজনা ‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে। ‘টুগেদার উই ক্যান’ নামে একটি নাটকের দল গড়েছেন তিনি। সেই দলের মঞ্চনাটকেও নির্দেশনা দেন নওশাবা। এরই মধ্য চারটি নাটক তৈরি হয়েছে এই দলের ব্যানারে। মূলত স্পেশাল চাইল্ডদের নিয়ে কাজ করে টুগেদার ইউ ক্যান। এবার মঞ্চের বাইরে সিনেমার নির্দেশনা দিলেন নওশাবা। নাম ‘সোমেশ্বরী’। এতে অভিনয়ও করেছেন নওশাবা।
সোমেশ্বরীর প্রযোজক বিবেশ রায়। প্রায় ২৫ বছর আগে অধ্যাপক শাহেদ আলীর গল্প অবলম্বনে তিনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও এর আশপাশের এলাকার গল্প নিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘ধানের কাব্য’ নামের একটি কাহিনিচিত্র। অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়িকা মুনমুন ও অভিনেতা মাহমুদুল ইসলাম মিঠু। এবার বিবেশ থাকছেন নেপথ্যে, প্রযোজক হিসেবে। সোমেশ্বরী সিনেমারও শুটিং হয়েছে সুনামগঞ্জের সোমেশ্বরী নদীর তীরে মধ্যনগর ও এর আশপাশের এলাকায়। নওশাবার সঙ্গে এই সিনেমায় আরও যারা অভিনয় করেছেন তাঁরা একেবারেই নতুন এবং মধ্যনগরের স্থানীয় লোকজন।
প্রযোজক জানিয়েছেন, এই সিনেমাটি মূলত একটি টিমওয়ার্ক। নির্মাণ প্রক্রিয়ায় থাকছেন কাজী নওশাবা, আপন, লতা, জাহিদসহ আরও কয়েকজন। তারা সবাই মিলেই সিনেমার স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছেন, সিনেমাটি নির্মাণ করছেন।
এ প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘এই সিনেমার স্ক্রিপ্ট কী হবে, কারা অভিনয় করবেন এসবের কিছুই জানতাম না। আমরা সবাই মিলে জাস্ট চলে গেলাম মধ্যনগর। সেখানে গিয়ে স্ক্রিপ্ট তৈরি করলাম। আমার যদিও অভিনয় করার কথা ছিল না। কিন্তু আমি ছাড়া মূল চরিত্রটিতে অভিনয় করার মতো কাউকে পাচ্ছিলাম না। তাই শেষ পর্যন্ত আমিই অভিনয় করি। আমার চরিত্রটির জন্য যে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তার পুরোটা আমি পাইনি। তবে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি চরিত্রটিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে। আমার আব্বু আমাকে নিয়ে নানা সময়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন। গ্রামীণ জনপদ, গ্রামের মানুষ আর তাদের যাপিত জীবন সম্পর্কে আমার জানাশোনা আছে। তাই খুব কষ্ট হয়নি অভিনয় করতে। মধ্যনগরের মানুষেরাও আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন।’
সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘আধুনিকতার নামে দিনে দিনে আমরা প্রকৃতির মাঝে বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছি। তার প্রভাবে আমাদের কী ক্ষতি হচ্ছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোন পৃথিবী আমরা রেখে যাচ্ছি, এসব ফুটে উঠবে সিনেমায়। সেই সঙ্গে একটি বিশেষ গল্পও থাকবে।’
সোমেশ্বরী সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে।
আজকালের খবর/আতে