জর্ডানে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। নতুন এই সুবিধার আওতায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জর্ডানে থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়া, কর্মস্থল পরিবর্তন এবং নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার সুযোগও পাবেন।
গত ১৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এ সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
জর্ডান সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের আইনগত অবস্থান বৈধ করা এবং স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুকদের সহায়তা প্রদান।
যারা সাধারণ ক্ষমার আওতার বাইরে
ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পর যেসব বাংলাদেশি যেকোনো ধরনের ভিসায় জর্ডানে প্রবেশ করেছেন, তারা এ সুবিধা পাবেন না। এছাড়া অনুবাদক, চালক, মেকানিক, আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, কাঠমিস্ত্রিসহ বিশেষজ্ঞ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা এবং বিচারাধীন বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এ কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবেন।
দেশে ফিরলে সব জরিমানা মওকুফ
যেসব বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য অতীতের সব ধরনের জরিমানা সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে বিমান টিকিট সংগ্রহ করে সরাসরি দেশে ফিরতে পারবেন তারা।
এছাড়া মাত্র ১০ জর্ডানি দিনার প্রক্রিয়াকরণ ফি দিয়ে দেশে ফেরার আগে নিজেদের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলে জমাকৃত অর্থ উত্তোলনের সুযোগও পাবেন।
জর্ডানে থেকে কাজের সুযোগ
যারা জর্ডানে অবস্থান করে কাজ চালিয়ে যেতে চান, তাদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরের ওয়ার্ক পারমিট (তাসরিয়াহ) ফি-এর ওপর ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি বছরের সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ করতে হবে।
তাসরিয়াহ বা আকামা নবায়নে বিলম্বজনিত সব ধরনের জরিমানা শতভাগ মওকুফ করা হয়েছে। একইভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রেসিডেন্সি পারমিটের কারণে আরোপিত বিলম্ব ফিও সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।
গৃহকর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
যেসব গৃহকর্মীর আকামা বা তাসরিয়াহর মেয়াদ দুই বছর বা তারও আগে শেষ হয়েছে, তারা পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ক্ষমার আওতায় থাকা অন্যান্য সুবিধাও তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের স্বাধীনতা
নতুন ঘোষণার আওতায় শ্রমিকরা সহজেই এক পেশা থেকে অন্য পেশায় স্থানান্তরিত হতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, গার্মেন্টস খাত থেকে গৃহকর্মী বা কৃষি খাতে এবং গৃহকর্মী থেকে অন্য পেশায় যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এছাড়া এক শহর থেকে অন্য শহরে গিয়ে নতুন কাজের অনুমতি নেওয়া এবং ফ্রিল্যান্স বা মুক্ত কর্মসংস্থানের জন্য ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসা
প্রথমবারের মতো ভিজিট ভিসায় জর্ডানে আসা ব্যক্তিদের দেশ ত্যাগ না করেই ওয়ার্ক পারমিট, তাসরিয়াহ ও আকামার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
দেশে ফিরতে যা করতে হবে
স্থায়ীভাবে দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট থাকতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করা যাবে। এ জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ বা পুরোনো পাসপোর্টের কপি ব্যবহার করা যাবে।
ট্রাভেল পাসের জন্য তিন কপি ছবি ও ৩০ জর্ডানি দিনার ফি জমা দিতে হবে। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
এছাড়া দেশে ফেরার আগে নিজের নামে কোনো মামলা রয়েছে কি না তা নিকটস্থ থানায় অথবা ১১৭১১১ নম্বরে ফোন করে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আজকালের খবর/ এমকে