রাজশাহীর বাগমারায় প্রশাসনের অভিযানে কমেছে অবৈধভাবে পুকুর খনন। তিন ফসলি জমিতে আইন অমান্য করে অবৈধভাবে পুকুর খনন করায় প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করে। গত মে মাসে মোট ১৮ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধ পুকুর খননের সাথে জড়িতদের জেল, জরিমান এবং খনন যন্ত্র অকেজো করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। এতে অনেকটাই কমে এসেছে অবৈধ পুকুর খনন।
গত কয়েক দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রশাসনের এই অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে গত মে মাসের অভিযেনে প্রায় ১২টির মতে এস্কেভেটর নষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি ২ জনকে ১ মাসের করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কোথাও কোথাও জরিমানার করা হয়েছে।
৩১ মে (রোববার) বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের মচমইল বাজারের উত্তর পাশে জমিদার বাড়ির নিকট অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমির মূল্যবান টপসয়েল কেটে মাটি বিক্রি করছে। এতে ফসলের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে এবং মাটি পরিবহনের ফলে স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন ঘটনাস্থলেই অকেজো করা হয়। পাশাপাশি মোঃ সিরাজুল ইসলাম শাকিল (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, একই স্থানে এর আগে সাতবার অভিযান চালানো হয়েছে এবং ছয়টি ভেকু মেশিন অকেজো করা হয়েছে। তবুও একটি প্রভাবশালী মাটি সিন্ডিকেট অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঞা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, তিন ফসলি জমি রক্ষা করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ যেন ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
এদিকে গত ৫ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সেলিম আহমেদ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব সাইফুল ইসলাম ভূঞা এর নেতৃত্বে গভীর রাতে বাসুপাড়া ইউনিয়ন এর দয়ার ঘাট এলাকায় অনুমতিবিহীন পুকুর খনন এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে গেলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন এবং মাটি পরিবহনের একটি ট্রাক স্পটে অকেজো করা হয়।
এ বিষয়ে পুকুর খননকারীদের সাথে কথা বলতে চাইলে তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, কোনভাবেই তিন ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করতে দেওয়া হবে না। আমরা নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এ ব্যাপারে প্রশাসন সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকারবদ্ধ।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন