পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী ব্রিজ (পটুয়াখালী ব্রিজ) থেকে টেংরাখালী ওয়ায়েজিয়া মোস্তাফাবিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও টেংরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে পুকুরজানা ব্রিজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি বর্তমানে অবৈধ ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রলির দৌরাত্ম্যে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহানোর পর এলাকাবাসীর একাধিক মানববন্ধন ও ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে অবশেষে মাত্র দুই মাস আগে সড়কটি সংস্কার ও পিচঢালাইয়ের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সড়কটি নির্মিত হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই এখন আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অবৈধভাবে ভারী ভেকু ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালবাহী ট্রলি চলাচল করছে। এর ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে পিচ উঠে যাচ্ছে, মাটি দেবে যাচ্ছে এবং নতুন করে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধির কারণে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই উন্নয়ন প্রকল্পটি এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।
এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন টেংরাখালী ওয়ায়েজিয়া মোস্তাফাবিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও টেংরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতায়াত করেন। এ ছাড়া টেংরাখালী, মিঠাপুর, পুকুরজানা, কচাবুনিয়া ও কাছিছড়াসহ ৭-৮টি গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি।
রাস্তাটির এমন বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "টানা ৭-৮ বছর আমরা যে কী কষ্টের মধ্যে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেছি, তা শুধু আমরাই জানি। দুই মাস আগে যখন পিচ ঢালাই হলো, তখন ভেবেছিলাম ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় পাঠাতে আর চিন্তা থাকবে না। কিন্তু এখন যেভাবে দিন-রাত ভারী ভেকু আর ট্রলি চলছে, তাতে কয়েকদিনের মধ্যে রাস্তাটা আবার আগের মতো খানাখন্দে রূপ নেবে। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, দয়া করে এই অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করুন।"
টেংরাখালী গ্রামের গৃহিণী মোসাম্মৎ শাহানাজ বেগম ক্ষোভের সাথে জানান, "কাদা-পানির রাস্তা ভালো হওয়ায় আমরা বুকভরে শ্বাস নিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু লোভী মানুষের জন্য সরকারের কোটি টাকার রাস্তাটা চোখের সামনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ট্রলি যাওয়ার সময় পুরো রাস্তা কাঁপে, মনে হয় এখনই ধসে যাবে। এখনই যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আমাদের এই নতুন স্বপ্ন অল্প দিনেই মাটির সাথে মিশে যাবে।"
নতুন সড়কটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে টেংরাখালী, মিঠাপুর ও খলিশাখালী গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় জনসমাগমস্থলগুলোতেও অবৈধ ভারী যান চলাচল বন্ধের দাবি এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে জানিয়েছেন, অবিলম্বে এ সড়কে ভারী ভেকু ও ট্রলি চলাচল বন্ধ করা না হলে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং সড়কটি রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।