রবিবার ৭ জুন ২০২৬
এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পিএম   (ভিজিট : ১৫)
নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসন, শোষণ শুধু দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারী কেড়ে নেয়নি বরং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতন শিক্ষা ব্যবস্থাকেও প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত করে দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। আমরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব, ইনশাআল্লাহ। 

রবিবার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি মাঠে যেসব সাহসী মানুষ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হবে। আর সেজন্য আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষায়-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে না পারলে আগামী দিনে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, দেশের আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ, সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি। এইসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কম-বেশি ৪০ লাখের মতন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ইতোমধ্যে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন পর্যায়ক্রমিকভাবে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা সংকট এবং প্রতিবন্ধকতা নিরশন এবং শহর কিংবা গ্রামের যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী, তাদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অবাধ প্রসার ও ব্যবহার বর্তমানে মানুষের জন্য নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অটোমেশন এবং এআই চালিত প্রযুক্তির কারণে হয়ত অনেক পুরোনো পেশায় কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে কিংবা অবলুপ্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ নতুন নতুন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়ত সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় সার্টিফিকেশন সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমানে দক্ষতা ভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তারেক রহমান বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন্সিক সায়েন্স প্রোগ্রামিং ডিজিটাল এন্টারপ্রেনরশিপ ডিজিটাল কমিউনিকেশন কগনিটিভ এম্পাওয়ারমেন্ট প্রেজেন্টেশন স্কিল লিডারশিপ এবং ফাইনান্সিয়াল লিটারেসির মতন সফট স্কিলের বিষয়গুলো ছাড়া শিক্ষা কারিকুলাম মনে হয় পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠতে পারে না। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, মেটেরিয়াল সায়েন্স ন্যানোটেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং কিংবা জেনারেশনস টেকনোলজি আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে উদাসীন থাকলে কর্মে সাফল্য অর্জন অসম্ভব হতে পারে। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চস্তর পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে বাস্তব ভিত্তিক বহুমুখী কর্মমুখী এবং প্রযুক্তি নির্ভর করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, গবেষণা উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই সময়ে শিক্ষা কারিকুলামের পরিমার্জন এবং সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি উপলব্ধি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে শ্রম উপযোগী আধুনিক এবং বাস্তমুখী করার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আজকের এই অনুষ্ঠান তারই বাস্তব প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়; বরং বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভরশীল রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিমূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তি নির্ভর এবং কর্মমুখী করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই চলমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি। তবে, আমাদের সামনে যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বসে আছে, তাদেরকে যখন পাই এ বিষয়টি আমি চেষ্টা করি উল্লেখ করতে যে, একজন মানবিক মানুষ হয়ে উঠার জন্য নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি নির্ভরতা দক্ষতা এবং মডেনাইজেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা এবং মানবিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ— এই বিষয়গুলোর প্রতি আরও অধিক গুরুত্ব দিবেন; যত্নশীল থাকবেন।

তারেক রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অনেককে বেকার থাকতে হয় দুঃখজনকভাবে। এর কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন সর্বোচ্চ অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জন করলেও ব্যবহারিক, প্রায়োগিক কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ। সুতরাং পরিস্থিতি বিবেচনা করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে এপ্রেন্টিসশিপ ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায় বর্তমান সরকার। 

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থী অবস্থাতে কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে, শিক্ষাজীবন শেষে তাকে হয়ত বেকার থাকতে হবে না, ইনশাআল্লাহ। 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এছাড়া, সরকার ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করারও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া মালিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে, অনেক আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে একজন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে বরং নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে এন্টারপ্রেনার হিসেবে আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

আজকালের খবর/বিএস 








আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft