মালয়েশিয়ার সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশটিতে সাইবার সিকিউরিটি ক্রিপ্টোলজি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসসিডিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রধান সচিব তান শ্রী শামসুল আজরি আবু বাকার-কে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পুস্তাকা তুন পেরদানা ফাউন্ডেশন রিসার্চ সেন্টার অন ক্রিপ্টোলজি অ্যান্ড মালয়েশিয়ান পলিসি (পিটিপিকেএম) পরিদর্শনের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেন্দ্রটির প্রতিষ্ঠা মালয়েশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
পরিদর্শনকালে দেশের সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করার বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, আগামী প্রজন্মের এনক্রিপশন প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি (পিকিউসি) নিয়ে তরুণ গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের নেতৃত্বে পরিচালিত পিকিউসি স্যান্ডবক্স কর্মসূচির অগ্রগতি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে প্রচলিত অনেক এনক্রিপশন পদ্ধতি ভবিষ্যতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ বাস্তবতায় পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি গবেষণা ও উন্নয়ন সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার তরুণ প্রতিভাবান গবেষকরা এই খাতে কাজ করে দেশকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করছেন।
পরিদর্শনের সময় বক্তারা বলেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ক্রিপ্টোলজি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সময়ের দাবি।
তারা আরও বলেন, সিএসসিডিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। এতে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রযুক্তি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে, যা দেশের সাইবার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং অন্যান্য কৌশলগত প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্বে নিজেদের সক্ষম করে তুলতে পারলে তারা শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
বক্তারা বলেন, আজকের তরুণদের উচিত কৌশলগত প্রযুক্তি আয়ত্ত করা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া। এর মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ভবিষ্যতেও সুরক্ষিত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সিএসসিডিসি প্রতিষ্ঠা এবং পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি উদ্যোগ মালয়েশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত প্রযুক্তি গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে।
আজকালের খবর/ এমকে