নীলফামারীর চিলাহাটির কেতকীবাড়ীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলায় সুধীর চন্দ্র ও রাধিকা রানী নামে এক দম্পতি গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের ভুজারীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই মারপিটের ঘটনায় ভুক্তভোগী সুধীর চন্দ্র বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে ডোমার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুজারীপাড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মশিয়ার রহমানের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত সুরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে সুধীর চন্দ্রের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (৩১ মে) দুপুরে মশিয়ারের পালিত ছাগল সুধীরের জমিতে বেঁধে রাখাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মশিয়ার রহমান, তার ছেলে ফাহিম ও স্ত্রী ফাতেমা বেগম মিলে সুধীর চন্দ্রকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী রাধিকা রানী এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে আবু কালাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি আহত সুধীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গোমনাতী ডারার পাড় এলাকায় মশিয়ারের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পথরোধ করে বাধা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই দম্পতিকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে অভিযুক্ত মশিয়ার ও মতিয়ার রহমান আইতু মারপিটের কথা স্বীকার করে জানান, সেখানে সামান্য মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, নির্যাতনের শিকার সুধীর চন্দ্রের পরিবার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব