বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬
ফারুকীর প্রশ্রয়ে সংস্কৃতিকর্মীরা অনিরাপদ ছিলেন: খন্দকার শাহ আলম
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৮:১০ পিএম   (ভিজিট : ৪৭)
সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে উদযাপিত হয়ে গেল ১৯তম জাতীয় পিঠা ও বৈশাখী উৎসব। তবে পথটা মোটেই মসৃণ ছিলো না। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিজাতীয় সংস্কৃতির পৃষ্টপোষক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর রক্তচক্ষুর কারণ ছিলেন মঞ্চের শক্তিমান অভিনেতা ও সংগঠক খন্দকার শাহ আলম। অবশেষে বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্টপোষকতায় অসময়ে জাতীয় পিঠা উৎসব ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করে আলোচনায় আসেন। তিনি একাধারে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্পাদক অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিকর্মী সংঘের সাধারণ সম্পাদক। জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উৎসব এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের নেপথ্য বিষয় নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মি. খন্দকার। 

দৈনিক আজকালের খবরের পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হচ্ছে

প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় পরে অসময়ে জাতীয় পিঠা উৎসব কেন, এর নেপথ্য কারণ কী?

খন্দকার শাহ আলম: প্রথমেই বলে নেইÑ এবারে জাতীয় পিঠা উৎসব অসময়ে করার কারণে নামটাতে একটু পরিবর্তন এনে সময়োপযোগী করা হয়েছে। এবারে জাতীয় পিঠা উৎসবের সঙ্গে বৈশাখী মেলাও যুক্ত করেছি। এবার আসছি আপনার প্রশ্নের জবাবে। মূলত আমরা গত জানুয়ারিতেই পিঠা উৎসব করার জন্য আবেদন করি তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বরাবর। কিন্তু তিনি এতে বাধ সাধেন। পরে সংবাদ সম্মেলন করে স্থগিত হওয়ার কারণ শুভানুধ্যায়ীদের জানিয়েছি।

প্রশ্ন: মি. ফারুকী কেন পিঠা উৎসব বন্ধ রাখতে চাপ প্রয়োগ করলেন। যতদূর জেনেছি আপনার সঙ্গে মুঠোফোনে তার একাধিকবার বাকবিতণ্ডা হয়েছে, এ নিয়ে পাঠক বিস্তারিত জানতে চায়?
খ শা আ: ২০২৪-এর ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়টা টালমাটাল ছিলো। চারদিকে রাজনৈতিক মত পথ প্রকাশে এক ধরনের উগ্রতা দেখতে পাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে আপনারা দেখে থাকবেন বাঙালি ও বাংলাদেশি আবহমান কৃষ্টি-সংষ্কৃতির ওপর আঘাত আসে। একজন ক্ষুদ্র সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংস্কৃতিকর্মীরা অসহায়বোধ করছিলেন। এ অবস্থায় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মি. ফারুকীকে পদক্ষেপ নিতে বারবার অনুরোধ করে ব্যর্থ হই। তিনি নীরবতাকেই সেরা অস্ত্র হিসেবে বেছে নেন। যেহেতু বারবার তাকে এ নিয়ে পীড়াপীড়ি করেছি এক পর্যায়ে তিনি বিরক্ত হয়ে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তার নীরবতার কারণে অসংখ্য ঘটনা সারা দেশে ঘটে গেছে অথচ তিনি আবক্ষ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে বিদেশি সংস্কৃতি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গেছেন। এছাড়াও দেশীয় সংস্কৃতির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বিজাতীয় সংস্কৃতি ড্রোন উৎসবে ব্যয় করলে তীব্র প্রতিবাদ করি। পরে মতবিরোধ দেখা দেয়। আর এ কারণে তিনি আমাকে মেনে নিতে পারেননি। ফলে আমার হাতেগড়া ১৮ বছর ধরে চলা জাতীয় পিঠা উৎসব ওই দুঃশাসনের সময় আলোর মুখ দেখেনি। 

প্রশ্ন: সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সময়ে  অসংখ্য সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে মবের ঘটনা ব্যাপারে আপনাদের জায়গা থেকে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কিনা?

খ শা আ: আমি বলবো মি. ফারুকীর প্রশ্রয়ে বাংলার শিল্পীরা অনিরাপদ ছিলেন। এখনো এই ক্ষত রয়ে গেছে। বিদেশের মাটি হলে বহু আগেই তিনি এই অভিযোগে গ্রেপ্তার হতেন। যাইহোক তার বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশ এটা আমার একার কোনো বিষয় না, এজন্য সংশ্লিষ্টগণ রয়েছেন তারা এবং বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের আগ্রহ এই দুইয়ে মিলে হয়তো কিছু করা সম্ভব। সরকারের সিগনাল জরুরি। তবে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে তাকে সংস্কৃতি ধ্বংসের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা জরুরি। তা নাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

প্রশ্ন: পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও আপনি তাদের অনুগত না থেকে বরং গঠনমূলক সমালোচনা করে নিজের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন আবার কেউ কেউ বলার চেষ্টা করে আপনি তাদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন, এ নিয়ে আপনার অবস্থান পরিষ্কার করুন?

খ শা আ: সংস্কৃতির শক্তি অপরিসীম। সেই শক্তিতেই কর্মমুখর থাকতাম। রাজনীতিকে কখনই সংস্কৃতির সঙ্গে মেলাতে যাইনি। এর ফল খুব একটা ভালো হয় না। একটা সময় ছিলো রাজনীতি সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে হেঁটেছে কিন্তু এখন চরিত্র বদলেছে ফলে দুই শব্দ আর পরিপূরক নেই, যারা চেষ্টা করেছেন আমি ছিলাম তাদের বিরুদ্ধে। ফলে অনেক সংগঠন থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছে। শিল্পকলায় সকলের প্রিয় কফি হাউসটাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর চালু করা যায়নি। এখনো না। ওটাকে ঘিরে সংস্কৃতিচর্চা যতটা বেগবান ছিলো এখন কিন্তু সেটা নেই। মানুষ নিজেদের মতো করে একটা জায়গায় চান যেখানে কারো হস্তক্ষেপ থাকবে না কিন্তু বিরোধী মত এসে সব গিলে খেতে চাইলো। আদালত পর্যন্ত যাওয়া হলো, রায় পেলাম কিন্তু আর চালু করা গেল না। শুধু রাজনৈতিক ভিন্ন মতের কারণে। সত্যি বলতে কখনো চুপ থাকাই প্রতিবাদ মনে হয়েছে। আর এটা করতে গিয়ে নানা জনে নানা ট্যাগ নিয়ে হাজির হয়েছেন। এখনো বলি আমি একজন ‘ক্ষুদ্র সংস্কৃতিকর্মী’। মানুষের হৃদয়ে কোমলতা আর সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাতেই মুক্তির পথ খুঁজি। বলতে পারেন এবারে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সহযোগিতায় অসময়ে পিঠা উৎসব ও বৈশাখী মেলা করার এটাও একটা কারণ।

প্রশ্ন: পিঠা উৎসব অসময়ে হলেও ব্যাপক জমজমাট ছিলো, রিস্ক মনে হয়নি?

খ শা আ: সংস্কৃতি উৎসবগুলো মনের খোরাক। এখানে পুরোটাই রিস্ক। তারপরও একধরনের দায়বোধ থেকে উদ্যোগ নেওয়া। শেষপর্যন্ত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পাঁচ লাখ টাকার অনুদান আর বিনা ভাড়ায় শিল্পকলার মাঠটি না পেলে হয়তো করাই হতো না। এজন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। বাকিটা স্টল ভাড়া বাবদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা এই হচ্ছে আমার সাহসের টোটকা। খরচ হিসাব করে দেখেছি এখনো প্রায় ৫ লাখ টাকা ঘাটতি। এরমধ্যে গণমাধ্যমকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই তারা ছিলেন উৎসবটিকে জমজমাট করার মূল হাতিয়ার। কারণ গত ১৮ বছর ধরে পিঠা উৎসব বাংলাদেশি সংস্কৃতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, এটা পুরোভাগ গণমাধ্যমের অবদান, নইলে স্বল্প সময়ের নোটিশে আয়োজনটি সম্পন্ন হতো না।

প্রশ্ন: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

খ শা আ: দৈনিক আজকালের খবরের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।









Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft