শনিবার ১৬ মে ২০২৬
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক ধাপ এগিয়ে গণপূর্ত
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম   (ভিজিট : ৮)
গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন শুধু নির্মাণ বিভাগ নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের একটি মডেল হিসেবে গড়ে উঠছে। প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ডিজিটালাইজেশন, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বিভাগটি সরকারের ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্প গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশসম্মত নির্মাণের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাগরিক সমাজও এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে। 

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তার এমন প্রশংসার কথা শোনা যায়। তারা বলেন, তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে আসার পর থেকেই অনেক সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে এ প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাচ্ছে। 

দীর্ঘদিনের সমস্যা, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং কাজের ক্ষেত্রে যে ধরনের অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিল, তার সবটুকুই এখন অতীত। প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধিদপ্তরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সংস্কারের যে ছোঁয়া লেগেছে তার প্রতিফলন এখন দৃশ্যমান প্রতিটি প্রকল্প এলাকায়। সবশেষ তথ্যানুযায়ী, অধিদপ্তরের প্রতিটি স্তরে এখন শৃঙ্খলা আর নিয়মের রাজত্ব। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, খালেকুজ্জামান চৌধুরী যোগদানের পর প্রথম যে কাজটি করেছেন, তা হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং কাজের মান নিশ্চিতকরণে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা। তার এই দৃঢ় অবস্থান অধিদপ্তরের সাধারণ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। জানা গেছে, বর্তমানে কোনো ফাইল অনুমোদনের জন্য আগের মতো দিনের পর দিন টেবিলে পড়ে থাকে না। ই-ফাইলিং এবং আধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি ফাইলের গতিবিধি এখন সরাসরি প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে শতভাগ। আগে যেখানে সাধারণ মানুষকে বা ঠিকাদারদের কাজের অগ্রগতির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো, এখন সেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিশেষ নজর দিয়েছেন। আগে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যেত, সৎ ও নিষ্ঠাবান প্রকৌশলীরা কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের অনাকাক্সিক্ষত চাপের মুখে পড়তেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের অধীনে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্তের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এসেছে এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। অতীতে টেন্ডার নিয়ে যে ধরনের সিন্ডিকেট বা অসম প্রতিযোগিতার কথা শোনা যেত, তা এখন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। বর্তমানে প্রতিটি টেন্ডার প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং প্রকৃত যোগ্য ঠিকাদাররাই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। সূত্রমতে, প্রধান প্রকৌশলীর কঠোর নির্দেশে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াও এখন অনেক সহজতর করা হয়েছে। তবে শর্ত একটাই—কাজের মান হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের। কাজে কোনো ধরনের ত্রুটি বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই কঠোরতার কারণে মাঠ পর্যায়ে কাজের গুণগত মান বহুগুণ বেড়ে গেছে। 

প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে তদারকিতে নানা বাধা আসত, এখন সেখানে প্রধান প্রকৌশলীর সরাসরি সমর্থনে তারা কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত করতে পারছেন। সূত্র জানিয়েছে, খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন কেবল একটি নির্মাণ সংস্থা নয়, বরং এটি একটি আধুনিক ও স্মার্ট প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। 

বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন এবং নতুন নতুন বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণে গণপূর্তের ভূমিকা এখন প্রশংসার দাবিদার। জানা গেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও বেশ কিছু মেগা প্রকল্প উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্রমতে, খালেকুজ্জামান চৌধুরীর হাত ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তর যে শৃঙ্খলার পথে যাত্রা শুরু করেছে, তার সুফল দীর্ঘমেয়াদে দেশ ও জাতি ভোগ করবে। 

প্রকৌশলীদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। এসব উদ্যোগের ফলে অধিদপ্তরের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ডিজিটালাইজেশন, ই-ফাইলিং ও সরাসরি তদারকির মাধ্যমে ফাইল জট নির্মূল করে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছি। 

আজকালের খবর/বিএস 















আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft