বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যেতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং গ্লোবাল সাউথের ঐক্য জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। গত বৃহস্পতিবার ব্রাসিলিয়ার পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ব্রাজিল আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থনের আশ্বাস দেয়। আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বাংলাদেশ সাইপ্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সেলসো আমোরিম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকা এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেই ব্রাজিল এই সমর্থন দিচ্ছে। জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের প্রার্থিতা পরিচালিত হচ্ছে— “আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ” এই দর্শনের ভিত্তিতে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের জন্য “একান্ত কৌশলগত ফোরাম” গঠনের প্রস্তাব। দুই দেশের উপদেষ্টা পর্যায়ে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপের এই প্ল্যাটফর্মকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নতুন ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিকস জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিষয়টিও বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে আমোরিম জানান, প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশকে সমর্থনের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে।
দুই নেতা বাংলাদেশ-ব্রাজিল বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করেন। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে উভয়পক্ষই মনে করে, এই সম্ভাবনার তুলনায় বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনও সীমিত।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের অর্থনীতি একে অপরকে পরিপূরক করতে সক্ষম। তিনি সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, গ্লোবাল সাউথের ভূমিকা এবং বহুপাক্ষিকতার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতি হবে আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন, সক্রিয় এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে বদ্ধপরিকর।
বৈঠকে কৃষি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, উদ্ভাবন ও প্রতিরক্ষা গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। জানানো হয়, ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে ১০টি আইনগত দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আরও ১৬টি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।
কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠককে “বাংলাদেশ-ব্রাজিল সম্পর্কের কৌশলগত পুনঃসূচনা” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকালের খবর/ এমকে