গভীর রাতে যখন মানুষ ঘুমের ঘরে, ঠিক তখনই বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় নেমে আসে ভয়াল এক ঝড়। শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া আধা ঘণ্টার ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ঝড়ের তীব্রতায় উড়ে গেছে ঘরের চালা, উপড়ে পড়েছে শত শত গাছ, আর মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে কৃষকের সোনালি ধানের ক্ষেত।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন যেন চারদিকে ছড়িয়ে আছে। কোথাও ভাঙা ঘর, কোথাও ছিন্নভিন্ন টিনের চাল, আবার কোথাও বিদ্যুতের তারের ওপর ঝুলছে বিশাল গাছ। অনেক পরিবার রাতভর আতঙ্কে নির্ঘুম কাটিয়েছে।
উপজেলার সাধুবাড়ি ঘুটুবটতলা এলাকায় ঝড়ের ভয়াবহতা ছিল সবচেয়ে বেশি। সেখানে ফয়সাল হোসেনের গোডাউন ঘরের টিনের চাল ঝড়ে উড়ে গিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি বৈদ্যুতিক টাওয়ারের সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফয়সাল হোসেন কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। গোডাউনের টিনের চাল উড়ে গেছে। প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব বুঝতে পারছি না।
শুধু ফয়সাল হোসেন নন, উপজেলার বহু পরিবারের একই আর্তনাদ। অনেকের ঘরের টিন উড়ে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নিম্নআয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
পৌর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় একটি বিশাল আমগাছ বৈদ্যুতিক তারের ওপর ভেঙে পড়লে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্ধকারে ডুবে যায় আশপাশের এলাকা। স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের বিকট শব্দ আর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ার আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে সাহস পাননি। প্রায় চার ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়।
এদিকে উপজেলার কুসুম্বি, শাহবন্দেগী, মির্জাপুর, গাড়িদহ, ভবানীপুর ও বিশালপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে পাকা ধান মাটিতে হেলে পড়েছে। কয়েকদিন পরই যে ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা, সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
কৃষকরা জানান, ঝড়ে ধান নষ্ট হওয়ায় ফলন কমে যাবে। একই সঙ্গে ধান কাটার খরচও অনেক বেড়ে যাবে। অনেক কৃষকের চোখেমুখে এখন হতাশার ছাপ।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত চালু করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
হঠাৎ মধ্যরাতের এই ঝড় শেরপুরবাসীর মনে আতঙ্কের ছাপ রেখে গেছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর একটাই দাবি দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
আজকালের খবর/বিএস