টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান ব্যাপকভাবে পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন ফসলহানি ঘটেছে, অন্যদিকে ধান নষ্ট হওয়ায় খড়সহ গো-খাদ্য উৎপাদনও হয়নি।
ফলে গরু-ছাগলের প্রধান খাদ্য খড়ের তীব্র সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। এ সংকট আর সংসারের ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ফসলহানি ও গো-খাদ্য সংকট—দুই কারণে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক পরিবারের কাছে গবাদিপশুই এখন শেষ সম্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খালিয়াজুরী সদরের কৃষক জিএম মিয়া (৩০) বলেন, “ধান পুরোপুরি পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। গরুকে খাওয়ানোর খরও নেই। তাই গত বছর ৯০ হাজার টাকায় দাম হওয়া গাভীটি এবার ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।”
গচিখাই গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া (৫৭) বলেন, “ঋণ আছে, ঘরে খাবারও নেই। দেড় লাখ টাকার গরু এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সংসার চালাতে হচ্ছে।” তাছাড়া এই গরু বিক্রি করতে পাইকারদের অনেক বার ফোন দিতে হচ্ছে।
কৃষক কাঁচা দাশ (৪৫) জানান, ফসল তলিয়ে গেছে “ঋণ ও গো-খাদ্যের অভাবে দুইটি ষাঁড় কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। গত বছর এগুলোর দাম আরও বেশি ছিল। এগুলো বিক্রি করে মহাজনদের ঋণ পরিশোধ করে জীবিকার জন্য গাজীপুর শহরে চলে যাব।
এদিকে খালিয়াজুরী বাজারের ধান ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, তার গবাদিপশু বর্গা দেওয়া থাকলেও খাদ্য সংকটে কৃষকরা এখন পশু ফেরত দিতে চাইছেন, এতে তিনিও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভাস্কর তালুকদার জানান, উপজেলায় ৫২ হাজার ২৯০টি গরু, ৩৮৫টি মহিষ ও ৫ হাজারের বেশি ছাগল-ভেড়া রয়েছে। হাওরে ফসলহানির কারণে এসব পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি গো-খাদ্য সহায়তার প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, হাওরের কৃষক ও গবাদিপশু রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে গো-খাদ্য সহায়তা, ত্রাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
আজকালের খবর/ এমকে