প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই ডিপার্টমেন্টের ২৬২ (৬৯তম) ব্যাচের সেকশন-বি এর নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুশৃঙ্খল, মার্জিত ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
গতকাল শুক্রবার পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা মিলেমিশে এক অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের সূচনায় সহকারী অধ্যাপক মিসেস আয়েশা সিদ্দিকা স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি, যেখানে কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়; বরং ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বগুণ, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটে। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুর রহিম বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি সিএসই ক্লাব ও এর বিভিন্ন সাব-ক্লাবের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করে জানান, শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং, রোবোটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্ব বিকাশে ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধুমাত্র ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়; বরং বাস্তবমুখী দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিই একজন শিক্ষার্থীকে সফলতার পথে এগিয়ে নেয়।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগম মমো নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সময় ব্যবস্থাপনা, নৈতিক মূল্যবোধ, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির বিশ্ব প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই নিজেকে সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে নিয়মিত শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত শক্তি তার জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ ও আত্মনিয়ন্ত্রণে নিহিত। তার বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান কর্নেল মো. শিহাবুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্যে একাডেমিক উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, একজন প্রকৃত প্রযুক্তিবিদ কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; তিনি সমাজ ও মানবকল্যাণে নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগান। তোমাদেরকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যেন দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক প্রযুক্তি পেশাজীবী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারো।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হচ্ছে নিজেকে আবিষ্কারের সময়। এই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। তাঁর বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের চেতনা জাগ্রত হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক সঞ্চিতা রানী দাস। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। অনুষ্ঠানজুড়ে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগ্রহ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, শিক্ষণীয় ও স্মরণীয়।
আজকালের খবর/ এমকে