জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়নভিত্তিক প্রতিযোগিতা “গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটি চ্যালেঞ্জ”-এর চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়ে সাফল্যের নজির গড়েছেন মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক এবং সিলেটের কৃতি সন্তান বৃষ্টি খাতুন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে একই মঞ্চে অংশগ্রহণ করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন গর্বের সঙ্গে।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরতেই তিন দিন ব্যাপী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের ৯১টি দেশ থেকে তিন হাজার পাঁচশোরও বেশি প্রতিযোগী এবং আট শতাধিক দল অংশ নেয়। কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত একশ’ জন প্রতিযোগী জার্মানিতে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সেই তালিকায় স্থান করে নেন বাংলাদেশি গবেষক বৃষ্টি খাতুন।
বর্তমানে বৃষ্টি খাতুন মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন। তার গবেষণার মূল বিষয় পরিবেশবান্ধব কৃষি, খাদ্য বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়ন। আধুনিক কৃষি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের গবেষণা, প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন। টেকসই উন্নয়নের নানা বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে আলোচনা হয় বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা ও উপস্থাপনায়।
চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বৃষ্টি খাতুন বলেন, “এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন আমাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে পরিবেশগত সংকট দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগই ভবিষ্যতের আশার জায়গা। এমন একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।”
বৃষ্টি মনে করেন, টেকসই উন্নয়ন এখন আর শুধু একটি একাডেমিক বিষয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে রক্ষার একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব। বিশেষ করে খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়নে নতুন নতুন গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আয়োজকরা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তরুণ গবেষক ও উদ্ভাবকদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংযুক্ত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর ধারণা বিনিময়ের উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও এমন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও গবেষণা-ভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
বৃষ্টির এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাসে থেকেও তিনি যেভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের নাম তুলে ধরছেন, তা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় তরুণ গবেষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি তরুণদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বৃষ্টি খাতুনের এই সাফল্যে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ বিভিন্ন মহল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন।
আজকালের খবর/ এমকে