চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসফেরত এক ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধারের পর তার স্ত্রী-সন্তানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে সেই ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছিলেন তার ছেলেই।
চার দিন আগে গত ২৭ এপ্রিল রাতে তাকে আঘাত করা হয়; পরদিন দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলমগীর নামে ৪০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি মারা যান।
এরপর হাসপাতাল পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার উত্তর পদুয়া কামারটিলা এলাকায়। শুক্রবার ভোরে উত্তর পদুয়া গ্রাম থেকেই মা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিকালে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন বলেন, “সেদিন রাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আলমগীর আহত হলেও কেউ বিষয়টি পুলিশকে জানায়নি। তার স্ত্রী-সন্তান বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রতিবেশীদের বলেন, প্রস্রাব করতে ঘরের বাইরে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ঘরের ভেতরেও রক্তের দাগ দেখেছিলেন প্রতিবেশীরা।”
ওসি বলেন, “প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানায়, আলমগীরকে উদ্ধারের সময় ঘরের ভেতর রক্তের দাগ দেখতে পেয়েছিলেন তারা। কিন্তু আমরা ঘরে কোনো রক্তের দাগ দেখতে পাইনি।
“বৃষ্টিতে ঘরের বাইরের রক্তের দাগ মুছে গেলেও ঘরের ভেতরের রক্তের দাগ মুছে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে আলমগীরের স্ত্রী রহিমা (৩৫) ও ছেলে রবিউল হাসান রাকিবকে (১৮) থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে খুনের বিষয়টি তারা স্বীকার করে।”
তদন্তের বরাতে পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীরকে কুপিয়ে জখম করেন তার বড় ছেলে রাকিব। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবেশীদের দেখা রক্তের দাগের সূত্র ধরে আলমগীরের স্ত্রী-সন্তানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ের পর থেকেই কলহ
ওসি হিলাল উদ্দিন ঘটনার বর্ণনায় বলেন, বিয়ের পর থেকে রহিমার সঙ্গে আলমগীরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ ছিল। পরে আলমগীর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। ২০০৭ সালে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে বিদেশে চলে যান আলমগীর। প্রথম স্ত্রী রহিমাও আলমগীরকে ডিভোর্স দিয়ে দুই সন্তান নিয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে থাকা শুরু করেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে ওসি বলেন, আট থেকে নয় মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে প্রথম স্ত্রী রহিমা ও দুই সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই ছিল।
পুলিশ বলছে, আলমগীর মদ পান করতেন। আর রহিমা মোবাইল ফোনে অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো।
গত ২৭ এপ্রিল রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে রহিমার দুটি মোবাইল ফোনের মধ্যে একটি আলমগীর ভেঙে ফেলেন। তখন অপর ফোনটি রহিমা তার ছোট ছেলের কাছে দিয়ে দেন।
আলমগীর তার ছোট ছেলের কাছ থেকে সেই ফোনটিও নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেটি না দেওয়ায় ছোট ছেলেকে মারতে যান। তখন তার বড় ছেলে রাকিব পেছন থেকে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলমগীরকে আঘাত করেন।
ওসি হিলাল বলেন, “আলমগীরকে হাসপাতালে নেওয়ার পর রহিমা তার ছোট ছেলেকে ঘর থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে সে ঘরটি ভালো করে মুছে পরিষ্কার করে ফেলা হয়।”
আজকালের খবর/ এমকে