পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ এর আয়োজনে সারাদেশে আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।
প্রতিবছর এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার বাংলাদেশসহ বিশ^ব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৯৯৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ২০০৩ সাল থেকে এ দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এরই ধারাবাকিতায় এ বছরও এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার, ২৯ এপ্রিল সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৬৪ জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা সভা এবং শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
ঢাকায় দিবসটি উপলক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সাধারণত দৃশ্যমান জিনিসকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি কিন্তু শব্দদূষণ যেহেতু অদৃশ্য কাজেই এটাকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেনা অথচ শব্দদূষণের যে প্রভাব কিংবা শব্দদূষণের যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তা মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি শব্দদূষণ রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকে নিজেরা যদি সচেতন হই তবেই শব্দদূষণ কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রাণ প্রকৃতি বাঁচানোর জন্য সকলের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১৮টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের উদ্যেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকল সংগঠন যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শব্দদূষণের বিষয়ে সচেতনতাবোধ তৈরি করে তাহলে তা সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন করার দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নুরুন নাহার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ সাইদুর রহমান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব মোঃ আনিছুর রহমান,পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে, প্রকল্পের আওতায় শব্দসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ বিনির্মানে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতায়ন করার পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এ পর্যন্ত সতেরো হাজার মামলা এবং ২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, শব্দদূষণ মনুষ্য সৃষ্ট একটি দূষণ যা আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে। শব্দদূষণের কারণে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাজেই এই দূষণটি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণের সচেতনতার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেন হয় এর উপর বক্তারা বেশি গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি জনগণকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
উক্ত আয়োজনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ স্কাউটস, বাংলাদেশ গার্লস গাইড, বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন বিশেষ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বেলা, গুলশান সোসাইটি, ধানমন্ডি সোসাইটি, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, পরিবেশ আন্দোলন (পবা), ধরিত্রী রক্ষায় আমরা(ধরা), ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ, ট্রাফিকের সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ), গ্রীণ ভয়েস, গ্রীণ সেভার্স, ন্যাচার স্টাডি ক্লাবের প্রতিনিধিগণ উপস্থিতি ছিলেন।
দিবস উপলক্ষে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটওভার ব্রিজে ব্যানার ও দৃশ্যমান স্থানে ফেস্টুন সাটানো হয়েছে এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস