গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় একই পরিবারের বাবা ও ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য, শোক এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রবিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে পুলিশ মো. সোহেল হোসেন (৫২) এবং তার ছেলে সাকিব হোসেন (১৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, সাকিব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় তাদের নিজ বাসার একটি কক্ষ থেকে। তার মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল, যা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক করে তুলেছে। অন্যদিকে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই এলাকার রেললাইনের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয় তার বাবা সোহেল হোসেনের মরদেহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলেকে নিয়ে তার সংসার চলছিল। ছোট ছেলে সাকিব পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতেন।
ঘটনার সময় পরিবারের বড় ছেলে সোহান হোসেন (২৭) পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, নাইট ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে গভীর ঘুমে থাকায় তিনি কোনো কিছু টের পাননি। তবে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা-এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। দুইটি ভিন্ন স্থানে মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, নিহতদের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমেছে। পুরো এলাকায় শোকের পাশাপাশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি-সাকিব কি হত্যার শিকার? সোহেলের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি একই ঘটনার অংশ? বড় ছেলে সোহানের ভূমিকা কী? পরিবারে কোনো গোপন দ্বন্দ্ব ছিল কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
আজকালের খবর/বিএস