নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হেরে সিরিজের শুরুতেই হোঁচট খেলেছিল টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে কামব্যাক করেছেন লিটন-শান্তরা। বোলিংয়ে নাহিদ রানার গতির উত্তাপ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের ৬ উইকেটে হারিয়ে সমতায় ফিরেছে স্বাগতিকরা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ১৯৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ৮৭ বল এবং ৬ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এতে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরাল টাইগাররা।
এদিন সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ষষ্ঠ বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার সাইজ হাসান। এদিন তিনে ব্যাট করতে নেমে আলো ছড়াতে পারেননি সৌম্য সরকার। ১১ বলে ৮ রান করে আপার কাট করতে গিয়ে স্লিপে ধরা দেন তিনি।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করতে থাকেন আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের ব্যাটে ভর করে ৬৭ রান তুলতে পারে টাইগাররা। সেই সঙ্গে ৩৩ বলে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন তামিম।
এরপর পিচে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তিনি। ৪ ছক্কা ও ১০ বাউন্ডারিতে ৫৮ বলে ৭৬ রান করে ক্যাচ আউট হন তিনি। এদিন নিজের ওয়ানডে ইতিহাসের শততম ম্যাচ খেলতে নেমে মাত্র ৭ রান করে আউট হন লিটন কুমার দাস। তবে অপর প্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন শান্ত।
হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকেন তিনি। ২৯তম ওভারের প্রথম বলে ১ রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ১১ তম ফিফটি তুলে নেন শান্ত। সবশেষ গত বছর রাওয়ালপিন্ডিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ফিফটি করেছিলেন তিনি।
এরপর দলের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার অধিনায়কের ৮ রান এবং হৃদয়ের অপরাজিত ৩০ রানে ভর করে ৮৭ বল এবং ৬ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। এদিন শুরু থেকেই কিউই ব্যাটারদের চাপে রাখেন টাইগার পেসাররা। একের পর এক ডট বল করে গেছেন শরিফুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ। হেনরি নিকোলস এবং নিক কেলির ওপেনিং জুটিটা বেশিক্ষণ টেকেনি। ২৫ রানের মাথাতে ২৬ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন নিকোলস। তাকে ফিরিয়েছেন গতিতারকা নাহিদ রানা।
নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট তোলেন রানা। তিনে নামা উইল ইয়ংকেও টিকতে দেননি রানা। নিজের পরের ওভারেই ৭ বলে ২ রান করা ইয়ংকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর কিছুক্ষণ প্রতিরোধ চালিয়েছেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। যদিও এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন নিক কেলি। তাকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারছিলেন না কেউ।
ল্যাথাম ৩৫ বলে ১৪ রান করে থামেন দলের ৫২ রানের মাথায়। তাকে ফেরান সৌম্য সরকার। কেলি ফিফটি ছুঁয়েছেন। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ফিফটির পরেও ছুটেছেন কেলি। রান তুলেছেন দলের বোর্ডে। আরেক প্রান্তে মুহাম্মদ আব্বাস ৩৪ বলে ১৯ রান করেন। ৩৫ বলে ১৫ রান করেন ডিন ফক্সক্রফট। দুজনকেই ফিরিয়েছেন সেই নাহিদ রানা।
ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন নিক কেলি ছুটেছেন সেঞ্চুরির দিকে। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন। যদিও শেষমেশ তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারটা ছুঁতে পারেননি। ১০২ বলে ৮৩ রান করা কেলি থামেন দলের ১৪৫ রানের মাথায়। তাকে বিদায় করেছেন শরিফুল ইসলাম। কেলিকে হারিয়ে রানের গতি অনেকটাই কমে যায় নিউজিল্যান্ডের।
শেষ দিকে ১১ বলে ১২ রান করেন ব্লেয়ার টিকনার। জেডন লেনক্স ৪ বলে ০ রান করেছেন। লেনক্সকে ফিরিয়ে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন নাহিদ রানা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে রানার দ্বিতীয় ফাইফার।
শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রান তুলে থেমেছে নিউজিল্যান্ড। ১১ বলে ৬ রান করে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন উইল ও’রউরকে।
আজকালের খবর/বিএস