মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে মালয়েশিয়া সরকার গত ১৫ এপ্রিল থেকে সরকারি দপ্তরগুলোতে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' নীতি কার্যকর করেছে। তবে সরাসরি কাউন্টারভিত্তিক সরকারি সেবা এই নীতির বাইরে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য স্টার/এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক।
দেশজুড়ে অধিকাংশ ফেডারেল সরকারি দপ্তরে সীমিত সংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকলেও কাউন্টার সেবা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আরবান ট্রান্সফরমেশন সেন্টার, যেখানে অভিবাসন বিভাগ ও পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়া হয়।
ফেডারেল প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় বর্তমানে নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কারণ মন্ত্রণালয়গুলোর বেশিরভাগ কর্মকর্তা বাসা থেকে কাজ করছেন। অধিকাংশ সরকারি ভবন কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের অবস্থায় রয়েছে আলো কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মোট লিফটের অর্ধেক চালু রাখা হয়েছে।
অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল বিভাগের হিসাবরক্ষক আজলিনা সুলিমান বলেন, সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়সূচি ও সুসংগঠিত কর্মপ্রবাহ অনুসরণ করে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' নীতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, অফিস-স্তরের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের সিস্টেমে লগ ইন করতে হয়, অফিসের ল্যাপটপ ব্যবহার করতে হয়, মূল দায়িত্বগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হয় এবং বাসায় উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, বাড়ি থেকে কাজের সময় আমি অনলাইনে লগ ইন ও লগ আউট করি, প্রতি ঘণ্টায় চেক ইন করি এবং সিস্টেমে প্রবেশের জন্য অফিসের ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করি। মাঠ পর্যায়ের কাজ ও দায়িত্ব বণ্টন আগের মতোই চলছে।
এই 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' নীতি মূলত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। এটি শুধুমাত্র ফেডারেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য, যারা কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর, পুত্রজায়া এবং বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানীতে কর্মরত এবং অফিস থেকে ৮ কিলোমিটারের বেশি দূরে বসবাস করেন।
তবে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের জন্য এই নীতি প্রযোজ্য নয়। যেসব সরকারি কর্মচারী এ সুবিধার আওতায় পড়বেন, তারা সপ্তাহে তিন দিন বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
এর আগে, জারি করা এক সার্কুলারে মালয়েশিয়ার পাবলিক সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ওয়ান আহমদ দাহলান আবদুল আজিজ জানান, 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-এর আওতাভুক্ত কর্মকর্তাদের জিও লোকেশন সুবিধাসহ ডিভাইস ব্যবহার করে প্রতি ঘণ্টায় অনলাইন মনিটরিং সিস্টেমে লগ ইন করে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া বিভাগীয় প্রধানদের প্রত্যেক কর্মকর্তার কাজের নির্ধারিত লক্ষ্য ও প্রত্যাশিত আউটপুট চিহ্নিত করতে হবে এবং তা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা দেন, জ্বালানি ব্যয় কমানো ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৫ এপ্রিল থেকে ফেডারেল মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
আজকালের খবর/ এমকে