নেত্রকোনার হাওর উপজেলা খালিয়াজুরীতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম বন্যা ও শিলাবৃষ্টির ভয়ে কৃষকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। হাওরে পানি বাড়লে একমাত্র রোবো ফসল তলিয়ে যাবে। এরই মধ্যে গত বুধবার থেকে উপজেলার নিচু এলাকায় হাওরে ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা।
খালিয়াজুরী উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ছয়টি ইউনিয়নে ৮৯টি গ্রাম নিয়ে হাওরে প্রায় ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে বোর ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে মেন্দিপুর ইউনিয়নের ডুল্লির হাওর, রোয়াইল, নন্দের বিল, পেটনার হাওর, চাকুয়া ইউনিয়নের চৌতারা, পাথরা হাওর, রানিচাপুর বিল, খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের কীর্তনখোলা, পোতাবিল, দাইরের পার, লক্ষীপাশা, পারাবিল হাওর, নগর ইউনিয়নের, চেলাবিল, পায়ার হাওর, চাতলের হাওর, মুলদাইর, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চায়ার হাওর, খানাইবিল, খাদ্যের হাওর, গাজীপুর ইউনিয়নের কইরা হাওর, নাইট্টা হাওর, হেনি হাওর, কাটা হাওর ও চাতল হাওরসহ প্রায় ২৮৬ হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে আংশিক ক্ষতি হতে পারে। এরই মধ্যে প্রায় ৫ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
খালিয়াজুরী উপজেলার নূরপুর বোয়ালী গ্রামের কৃষক সামছু মিয়া, খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক পান্ডব সরকার বলেন, নিচু জমিতে পানির কারণে মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। তাই আমরা এলাকার কিছু কৃষক নিজেদের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকার নীচু জমিতে গত বুধবার হতে ধান কাটা শুরু করেছি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রউফ স্বাধীন, জামাতের আমীর মো. ইসমাইল হোসেন, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু বলেন, খালিয়াজুরী উপজেলায় বোরো ফসলের ফলন এ বছর ভালো হয়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে কিছুটা জলাবদ্ধতা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় হারভেস্টার মেশিন সংগ্রহের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করি ভালোভাবে ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারবো।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলায় ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমি কাটার করার জন্য প্রায় ২০০ হারভেস্টার মেশিনের প্রয়োজন। এর মধ্যে ৮৬টি মেশিন রয়েছে। বাকি হারভেস্টার মেশিনগুলো পার্শ্ববর্তী অন্যান্য উপজেলা হতে সংগ্রহের জন্য চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে আরও প্রায় ৪০টি মেশিন পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ১২৬ টি মেশিন আছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বাকি মেশিনগুলো উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আসবে বলে আমরা আশাবাদী। বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের আংশিক ক্ষতি হলেও খালিয়াজুরীতে এ বছর বোরোর ফলন ভালই হয়েছে।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, জলবদ্ধতার কারণে নিচু এলাকার জমিগুলোর মাঝে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে ফসল কাটা শুরু করেছেন। এ বছর ফসলের ফলন ভালই হয়েছে। আগামী ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বরো ফসল কাটা শুরু করবো। হারভেস্টার মেশিন চালানোর ব্যাপারে বলেন, ডিজেল তেল পার্শ্ববর্তী মদন ও ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি কোন ধরনের সমস্যা হবে না। তাছাড়া স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করে রাখা হবে।
আজকালের খবর/বিএস