গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ কার্যকর করার দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা গণভোটের গণরায় মেনে নাও, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কর, সংশোধন নয়, সংস্কার পরিষদ গঠন কর, জুলাই শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না, এমন নানা স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে জাবি শাখা ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাশ করার কথা থাকলেও বর্তমান সরকার তা নিয়ে কালক্ষেপণ করছে।
বিশেষ করে গুম বিরোধী আইন কার্যকরে বাধা প্রদান অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "সরকার আমলাদের ওপর নির্ভর করে ভুল পথে হাঁটছে। শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করলে সরকারের পরিণতি ভয়াবহ হবে।
জাবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে জুলাই সনদকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। সংসদে জ্বালানি সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদপুরে বৃদ্ধা ধর্ষণের মতো ঘটনা এবং গুম অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। ইলিয়াস আলীর মতো নেতারা গুমের শিকার হলেও বর্তমান সরকার সেই বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে যা শহীদদের রক্তের সাথে প্রতারণা। অবিলম্বে গণরায় বাস্তবায়ন না করলে ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন