ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন দিন পার হলেও মামলা দায়ের না হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকরা সব ধরনের সরকারি সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা সাংবাদিক মহল আয়োজিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) এক ডিলারের তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করায় থানা চত্বরে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস,এম আলমগীর হোসেন ও তোফাজ্জেল হোসেন টিটু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো মামলা রুজু হয়নি। ফলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সদরপুরের সাংবাদিক নেতারা বলেন, অভিযোগ দেওয়ার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা গ্রহণ না করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা আরও জানান, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।
ইতোমধ্যে প্রতিবাদ হিসেবে উপজেলার সাংবাদিকরা সরকারি সব ধরনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সদরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমান। বক্তব্য রাখেন সদরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিমুল তালুকদার, দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক সাব্বির হাসান, দৈনিক সমকাল সাংবাদিক আবুল বাসার মিয়া, দৈনিক ভোরের ডাক সাংবাদিক সোবাহান সৈকত, দৈনিক আমার দেশ মোঃ নূরুল ইসলাম, দৈনিক জনকন্ঠ সাঈদুর রহমান লাবলু, দৈনিক দিনকাল প্রভাত কুমার সাহা ও দৈনিক আমাদের সময়ের মোঃ কবির হোসাইন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হবে আর প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনের গড়িমসির প্রতিবাদে আমরা আজ থেকে উপজেলা প্রশাসন, এসিল্যান্ড ও থানা কর্তৃপক্ষের কোনো সংবাদ প্রচার করব না। যতদিন না হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে, ততদিন এই বর্জন কর্মসূচি চলবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সুধী সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আজকালের খবর/ এমকে