জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে ‘ষড়যন্ত্রকারী চক্রের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি বলেন, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ ব্যাহত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অবৈধ মজুদ ও বাজার কারসাজির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তা দমন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে জিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
কমিশনার অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ী ও অবৈধ মজুদদাররা জড়িত। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করবে।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুর মহানগরে জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশ সদস্য ও যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে। তবুও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং নগর নিরাপত্তায় উন্নতি এসেছে।
সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট বাস ও ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় মহাসড়কে এলোমেলো পার্কিং হচ্ছে। এতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কমিশনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মো. দেলোয়ার হোসেন, শাহ সামসুল হক রিপন, নাসির আহমদ, মো. আমিনুল ইসলাম, মাজারুল ইসলাম কাঞ্চনসহ অন্যান্যরা।
দেলোয়ার হোসেন তেলের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে অতীত শাসনামলে কিছু সাংবাদিকের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যকে ঘিরে উপস্থিত একাংশের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সাংবাদিকরা সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরে মাদক, ছিনতাই ও অপরাধের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ঈদুল ফিতরে যানজটমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করায় জিএমপির উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় শুধু পুলিশি অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রশাসন, বাজার তদারকি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নগরের সড়ক ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার না হলে দীর্ঘমেয়াদে জনদুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস