কাগজে কলমে শতভাগ পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় দেখানো হয়েছে ২০২১ সালে। দৃশ্যত চার বছর ধরে অন্তত তিনটি গ্রামের শতাধিক পরিবারের হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত। সরেজমিন অনুসন্ধানে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তিন গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার চিত্র উঠে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবহেলিত এই জনপদের পশ্চিম মধুখালী গ্রামের একাংশ, উত্তর চরপাড়া গ্রামের একাংশ ও ইসলামপুর গ্রাম সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত। অনেকেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, ঠিকাদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে লাগাতার ধরনা দিচ্ছেন। এরপরও আলো জ্বলেনি। ফলে গ্রামবাসী এখন বলছেন, আশ্বাস দিয়েছেন সবাই কিন্তু আজ অবধি কেউ কথা রাখেনি।
অন্যদিকে ঠিকাদারি পক্ষের লোকজন কারও কারও কাছ থেকে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিম মধুখালী গ্রামের টাওয়ার রোডের কালভার্ট এলাকার আবু ইউসুফ আকন জানান, তাদের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ১০টি পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। তাদের কারও কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়েছেন বিদ্যুতের খুঁটি বসানো ঠিকাদার। তিনটি খুঁটি বসানো হলেও সংযোগ তো দূরের কথা, তার টানাও হয়নি। এ ছাড়া ওই গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার রয়েছে বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে।
আরামগঞ্জ মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম জানায়, তাদের এখনো কেরোসিনের ল্যাম্প ও হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হয়। আর রাত হলেই শুরু হয় ভোগান্তি। কারও কারও সোলার রয়েছে। কিন্তু তাতে সংকুলান হয় না। এই গ্রামের বাসিন্দারা ঠিক কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন, তা জানেন না। তবে অনেকের প্রশ্ন, ২০২১ সালে কীভাবে শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দেশের চাহিদার অন্তত ১৫ ভাগ বিদ্যুৎ কলাপাড়ায় উৎপাদন করা হচ্ছে, অথচ তারা কেন বঞ্চিত।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল বলেন, এই তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বহুবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুরাহা করা হয়নি।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী বলেন, এসব পরিবার ছাড়াও আরও পাঁচটি গ্রামের আংশিক কিছু পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতে হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলেও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, এই তিন গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার জন্য উপজেলা ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।
আজকালের খবর / রাশেদুল মিলন