গাজীপুর শহরে এক সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত হামলা ও মানহানির অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সাংবাদিক মহলে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের হাবিবুল্লাহ সরণি এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, স্বনামধন্য সাংবাদিক আসাদকে কৌশলে ডেকে এনে এক নারীকে ব্যবহার করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেয় এবং সেখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ওই নারী তার ওপর হামলা চালান। এ সময় আসাদকে বলতে শোনা যায়, তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে আক্রমণ করা হয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই নারীকে ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সাংবাদিকদের দাবি, এটি কেবল একটি হামলার ঘটনা নয়, বরং একজন পেশাদার সাংবাদিকের সম্মানহানি করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। অন্যদিকে অভিযুক্ত নারী দাবি করেছেন, গত ১১ মার্চ সাংবাদিক আসাদ তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেছিলেন। তবে এ দাবিকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে-যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কেন দীর্ঘ সময় পর এভাবে দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে হামলা চালানো হলো।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আইন ও আদালত রয়েছে; কিন্তু এভাবে কাউকে ডেকে এনে অপমান ও হামলার শিকার করা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। এ ঘটনার পর গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকায় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং নিরাপদ সাংবাদিকতা চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
সাংবাদিক সমাজ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাই সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
আজকালের খবর/বিএস