রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬
দাদি-নাতনি খুনের রহস্য উদঘাটন, ঘটনার স্বীকারোক্তি শরিফুলের
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম   (ভিজিট : ৬৩১)
পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত সুফিয়া খাতুনের আপন ভাগ্নে মো. শরিফুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন

রবিবার (১ মার্চ) জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত সুফিয়া খাতুন ঈশ্বরদীর ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের জয়নাল খানের মা ও জামিলা আক্তার সেতু জয়নালের মেয়ে।

জামিলা স্থানীয় কালিকাপুর দাখিল মাদরাসায় দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অন্যদিকে আসামি শরিফুল ঈশ্বরদীর কালিকাপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সুফিয়া খাতুন ও তার নাতনি সেতু প্রতিদিনের মতো নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ির গেটের সামনে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের একটি গমক্ষেতে সেতুর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ও ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নিশ্চিত হয় যে এ হত্যাকাণ্ডে সুফিয়া খাতুনের আপন ভাগ্নে শরিফুল জড়িত। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিও দেন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, খালার বাসায় যাতায়াতের সুবাদে ঘাতক শরিফুল খালা সুফিয়া খাতুনের নাতনি জামিলার ওপর তার কুদৃষ্টি পড়েছিল।

এরপর ঘটনার রাতে (২৭ ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক ১১টার দিকে শরিফুল কৌশলে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। দাদি সুফিয়া খাতুন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে শরিফুল ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে সুফিয়া খাতুন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান। 

এরপর শরিফুল ঘরের ভেতর গিয়ে জামিলাকে জাপটে ধরেন। এ সময় সেতু চিৎকার করলে শরিফুল হাতুড়ি ও বাঁশের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে অচেতন করে ফেলেন।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সেতুকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পাশের পুকুরে পড়ে যায় দুজন। সেখান থেকে তুলে পাশের একটি গমক্ষেতে নিয়ে সেতুকে ধর্ষণ করেন এবং সেখানে তাকে হত্যা করে ফেলে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের কাঠি, একটি কাঠের বাটাম এবং আসামির ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। এ ঘটনায় ভিকটিম জামিলার ফুফু মোছা. মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে রবিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজকালের খবর/বিএস 







আরও খবর


Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
হাসপাতালে আশা ভোসলে, অবস্থা সংকটাপন্ন
৪ সিটিতে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে রবিবার
দীপালির মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
শাফিন আহমেদ বগুড়ার হোটেল নাজ গার্ডেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
কক্সবাজারে মাদকাসক্তদের নতুন জীবনের আশ্রয় ‘ফিউচার লাইফ’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করল ইরান, দাবি ইসরায়েলি গণমাধ্যমের
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft