সমুদ্র তীরবর্তী জোয়ার ভাটার জেলা বরগুনা-১ আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকদের ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকদের বিশাল ভোটব্যাঙ্ক যাদের পক্ষে যাবে তার পক্ষে জয়ী হওয়ার সহজ হবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।
এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা। এই আসনে ধানের শীষের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আভাশ পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়াও ১১ দল সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী মো. জামাল হোসেন তার প্রতীক সাইকেল। এই আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ হারুন দাড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেও তার বিশেষ সুবিধা খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নাও পেতে পারেন বলে জনসাধারণের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে।
স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে প্রায় সব সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত অথবা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হবার কারণে বর্তমানে প্রার্থীরা সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থদের ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি একটি নির্বাচনী সভায় ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাত পাখার প্রার্থী মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ বলেছেন, ছোট দুষ্টু বাচ্চাদেরকে বাবা-মা এক দফা মারধর করার পরে তাকে চকলেট দেবো বলে আবার ডাকতে থাকে এরপর তারা কাছে এলে আবার মারধর করে, আওয়ামী লীগের লোকদের বলব ৫ আগস্টের পরে আপনাদের এক দফা মারধর করা হয়েছে এখন আপনাদের লোভ দেখানো হচ্ছে, আপনারাই চিন্তা করে দেখেন কি করবেন, আমরা ইসলামী আন্দোলন থেকে আপনাদের প্রতি কোন জুলুম করিনি অন্যায় ভাবে দখল চাঁদাবাজি করিনি সিদ্ধান্ত আপনাদের।
২ নং গৌড়িচন্না ইউনিয়নের অপর এক সভায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কারাবন্দি মনিরুল ইসলামের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম একজন সৎ ও ভালো মানুষ তাকে অন্যায় ভাবে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে আমি তার জন্য দোয়া করি।
ইসলামী আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ সাকুর বলেন, ইসলামী আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, ১৯৭১ সালে পীর সাহেব চরমোনাই এর বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। এছাড়াও ৫ই আগস্টের পারে আওয়ামী লীগের উপরে আমরা কোন মামলা হামলা করিনি সাধারণ আওয়ামী লীগের যে সকল নিরীহ সমর্থকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে আমরা বিজয়ী হলে ইনশাল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করা হবে। আমরা আশা করছি সাধারণ আওয়ামী লীগের সমর্থক সহ শান্তিপ্রিয় মানুষ আমাদের হাতপাখাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।
১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা দল মত নির্বিশেষে সকলের ভোট প্রত্যাশা করছি। আশা করছি জোটের পক্ষ থেকে আমরা ভোট পাব।
এ প্রসঙ্গে বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরা মৌলবাদী এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের ভোট দিবে বলে আমি মনে করি না এছাড়াও জেলার হিন্দু ভাইয়েরা ইতিমধ্যে আমার পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে তারা মনে করে আমার কাছেই তারা নিরাপদ । এছাড়া আমার জীবনে আমি চাঁদাবাজি এবং সহিংস রাজনীতি করিনি এটা সবাই জানে।
বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫,১২,৬০৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৫৫,১২৭ জন এবং নারী ভোটার ২,৫৭,৪৬৫ জন।
আজকালের খবর/বিএস