উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারের শতবছরের পুরনো চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ, নারী নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মরিচ্যা বাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সুরেশ কর্মকারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেলাল উদ্দিন। সুরেশ কর্মকার পড়তে সমস্যায় পড়ায় তিনি তাঁর পক্ষে বক্তব্য পাঠ করেন বলে জানান আয়োজকরা।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী সংখ্যালঘু পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন। এতে পরিবারটির স্বাভাবিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য এম. মনজুর আলমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে নির্মিত একটি দেয়াল অপসারণ করে পুনরায় ওই রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে সেখানে যান। এ সময় বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ও তাঁর সহযোগীরা সুরেশ কর্মকার ও তাঁর কন্যার ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানিতে জড়ান বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার সময় এনসিপি নেতা রফিক নির্মাণাধীন একটি মার্কেটের নিচে ইটের ওপর পা পিছলে পড়ে আহত হন। তবে এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রফিককে বাদী করে স্থানীয় ইউপি সদস্য এম. মনজুর আলমসহ আটজন এবং অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুরেশ কর্মকারের স্ত্রী শিল্পী কর্মকার, নিত্য কর্মকার, সজল কর্মকার, ইউসুফ বাবু সিকদার ও রফিক উদ্দিন। বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য এম. মনজুর আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক। তারা অবিলম্বে ওই মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ২৭ জানুয়ারি উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বাজারে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হিন্দু নারীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি তথাকথিত মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে মানবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এনসিপি নেতা রফিককে বাদী করে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, বাংলাদেশ পুলিশসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের জানমাল ও সংখ্যালঘুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের প্রতি ঘটনাস্থলে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানে এগিয়ে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।