প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিয়োগ বোর্ড বাতিলের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের একাংশ চলমান নিয়োগ বোর্ড বাতিল চান বলে জানা গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকট থাকলেও কী উদ্দেশ্যে নিয়োগ বন্ধের তোড়জোড় হচ্ছে সে বিষয়টি অজানা। তবে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ধরে নিয়ে ইউট্যাবের একটি পক্ষ এসব তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে এক জরুরি বৈঠকে (গোপন) এমন দাবি ওঠে। আলোচনা সভায় সংগঠনটির শিক্ষকদের মধ্যে নিয়োগ বাতিলের পক্ষে-বিপেক্ষে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
জানা যায়, আজ সাড়ে ১১ টায় ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয়াদি আলোচনা’ নামক একটি জরুরি মিটিং ডাকা হয়। মিটিং-এ চলমান নিয়োগ বোর্ড নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে উপস্থিত অন্তত ১২-১৪ জন সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্যদের চলমান শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে ১২ তারিখের পর (জাতীয় নির্বাচনের পর) চালু করার কথা জানান। বাতিল না করলে সব সংগঠন থেকে পদত্যাগের ইঙ্গিতও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে শিক্ষকদের মধ্যে একটি পক্ষ বলেন, ‘নিয়োগ বন্ধের তেমন তো কোনো কারণ দেখি না, তাহলে কী উদ্দেশ্যে নিয়োগ বন্ধ হবে’ এ কথার প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
সভায় উপস্থিত থাকা এক শিক্ষক জানান, কোনো পরামর্শ ছাড়াই উপরের নির্দেশনা আছে বলে জরুরি মিটিং-এ নিয়োগ বাতিলের দাবি তোলে। জিয়া পরিষদ একমত রয়েছে বলে ইনফ্লুয়েঞ্জ করতে শুরু করে। ১২ তারিখের আগে নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি, এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সবকিছু প্রস্তুত করে রেখেছে। যার কারণে দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে তর্ক ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত থাকা অধ্যাপক ড. নজিবুল হক বলেন, ‘সার্বিক বিষয় নিয়ে মিটিং ছিল। নিয়োগের আলোচনায় মত-দ্বিমত দেখা দেয়।’
হট্টগোলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু সিদ্ধান্তে পক্ষে বিপক্ষে ছিল, টুকটাক তর্ক হট্টগোল সৃষ্টি হবেই।’
এদিকে জানতে চাইলে ইউট্যাবের ইবি শাখা সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘সার্বিক বিষয়ে মিটিং হয়েছে। তবে এখনও অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জানাবো।’
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কিনা জানতে যোগাযোগ করা হলে ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘এধরণের সিদ্ধান্ত হয়নি। ক্যাম্পাসের বিষয়, সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে জিজ্ঞেস করেন কারা সিদ্ধান্ত দিছে।’
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক মিলিয়ে মোট ২৪টি শূন্য পদে স্থায়ী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
সহযোগী অধ্যাপক (গ্রেড-৪): ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (১টি), রাষ্ট্রবিজ্ঞান (২টি), ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ (১টি), ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (১টি), সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (২টি), বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (১টি), ফার্মেসি (১টি), এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি (১টি), ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (২টি), মার্কেটিং (২টি), ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (২টি)।
সহকারী অধ্যাপক (গ্রেড-৬): কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম (২টি) এবং ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স (২টি)। প্রভাষক (গ্রেড-৯): ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (১টি), হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (২টি), এবং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম (১টি)।
এছাড়া আজ বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বোর্ড এবং ১৮ তারিখ ফার্মেসি বিভাগের নিয়োগ রয়েছে।
আজকালের খবর/ এমকে