
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় টানা ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শীতজনিত ‘কোল্ড ইনজুরি’র প্রভাবে বীজতলার চারা স্বাভাবিক সবুজ রং হারিয়ে হলুদ ও লালচে হয়ে যাচ্ছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমে চারা সংকটের পাশাপাশি চারার দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চারা রোপণের আগেই শীত ও ঘন কুয়াশা বোরো ধানের বীজতলার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বীজতলার চারা স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কোথাও কোথাও চারা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা পুরো বোরো আবাদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিমলা সদর ইউনিয়নের কৃষক সুলতান হোসেন বলেন,শীতের তীব্রতায় বোরো ধানের বীজতলার চারা খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে নতুন করে বীজতলা তৈরির চিন্তা করতে হচ্ছে।
একই আশঙ্কার কথা জানান বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দর খাতা গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন,চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেকে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হবে। সময়মতো চারা না পেলে পুরো বোরো আবাদই ঝুঁকিতে পড়বে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এতে বোরো ধানের বীজতলার ক্ষতির মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না, বলেন , ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,কৃষকদের বীজতলা পলিথিন বা খড় দিয়ে ঢেকে রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে অনেক ক্ষেত্রেই চারা আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও জানান, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি যদি দীর্ঘদিন এমন থাকে, তাহলে বোরো আবাদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, কৃষকদের সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি বোরো মৌসুমের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হবে।
আজকালের খবর/বিএস