
নগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান উদ্দিন হত্যা মামলার অধিকতর শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে পরবর্তী দিন আগামী ২১ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে অধিকতর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি বরখাস্তকৃত এএসআই আশেক এলাহীর উপস্থিতিতে শুনানি করেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালতে এ ।
শুনানিকালে আদালত কাঠগড়ায় থাকা আসামি ও তার আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীদের কাছ বক্তব্য থেকেও বিভিন্ন ব্যাখ্যা গ্রহণের পর পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২১ জানুয়ারি ধার্য করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফজল চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার মামলার রায়ের তারিখ ছিল না। আদালত অধিকতর শুনানি করেছেন।
বিভিন্ন বিষয়ে আইনজীবীদের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন। সেসব বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আদালতকে অবহিত করেছি।
রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, মামলায় সাক্ষী ও প্রমাণের সংখ্যা বেশি হওয়ায় আদালত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ৩০ নভেম্বর কারাবন্দি আসামি বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহীর যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
এর আগে ২৬ নভেম্বর পলাতক পাঁচ আসামির যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। মামলার বাকি আসামিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকলেও পলাতক রয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া গত ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। পরে চেম্বার জজ তার জামিন স্থগিত করেন এবং ১০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। কিন্তু আকবর সেই থেকে পলাতক রয়েছেন। আদালতে হাজির হননি।
এছাড়া মামলার অপর আসামিদের মধ্যে সাবেক এসআই হাসান উদ্দিন শুরু থেকেই পলাতক। সাবেক কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ জামিন পাওয়ার পর একবার আদালতে হাজিরা দিলেও পরবর্তী ধার্য তারিখ থেকে তারাও পলাতক হন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আবদুল্লাহ আল নোমান পালিয়ে দেশ ছেড়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর গভীর রাতে নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনকে ধরে এনে নির্মম নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৭টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মহানগর পুলিশ তদন্ত কমিটি করে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এরপর সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ডোনা সীমান্ত থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ।
২০২১ সালের ৫ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়। ৬৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ চার বছর পর মামলাটি এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস