
গাজীপুর সদর উপজেলার সালনা ইউনিয়নে মসজিদ ও স্থানীয় ২০ থেকে ২৫টি বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দায়ের করা একটি মামলায় ভূমি অফিসের সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ভূমি অফিস আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া, যা ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পি-মোকদ্দমা নং-৯৭৮/২০২৫-এর বাদী আহমদ আলী বলেন, আমি ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতে মামলা করেছি। আমাদের এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি ও মসজিদের জন্য যে রাস্তাটি প্রয়োজন, সেটি হলে এলাকাবাসীর চলাচল ও নামাজ পড়তে মসজিদে যাতায়াত অনেক সহজ হবে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সবাই এই রাস্তার পক্ষে। মানুষের চলাচলের স্বার্থেই আমি মামলা করেছি।
তিনি আরও বলেন, আদালত থেকে এসিল্যান্ড অফিসের মাধ্যমে ভূমি অফিসকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ভূমি অফিস যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে আমি নাকি আপোস করে ফেলেছি। এই কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কখনোই আপোস করিনি। প্রতিবেদনে মিথ্যা কথা লিখে আমাদেরকে ন্যায়বিচার ও রাস্তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার একটি চক্রান্ত করা হচ্ছে।
বাদীর অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই একতরফা ও ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা চান মিয়ার দেয়া মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ায় ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা চানমিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। তিনি দাবি জানান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গাজীপুর সদর এসিল্যান্ড অফিস থেকে পুনরায় নিরপেক্ষভাবে সরেজমিন তদন্ত করা হোক।
এদিকে সালনা ভূমি অফিসের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা চান মিয়ার সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য গাজীপুর সদর এসিল্যান্ড অফিসে গেলে এসিল্যান্ড জরুরি মিটিংয়ে থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ আহমেদ বলেন, ভূমি অফিসের কেউ সরেজমিনে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি। আমাদের না জানিয়ে, বাদীর কোনো সম্মতি ছাড়াই কীভাবে আপোস দেখানো হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এলাকাবাসীর মতামত ছাড়াই মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, এই রাস্তা হলে পুরো এলাকার মানুষ ও মসজিদে নামাজ পড়তে যাতায়াতকারী মুসল্লিদের অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু ভুল প্রতিবেদনের কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, ভূমি সংক্রান্ত মামলায় সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সেখানে যদি ভুল, পক্ষপাতমূলক বা অসত্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা সরাসরি আদালতের ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
এলাকাবাসী ও বাদীপক্ষ এখন জোর দাবি জানাচ্ছেন, বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে গাজীপুর সদর এসিল্যান্ড অফিস থেকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
আজকালের খবর/বিএস