প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২৭ পিএম

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বগুড়া শিবগঞ্জের গাংনগর আলে মাহমুদ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। জানাগেছে, ১৯৫০সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন সোনাতলার ঐতিহ্যবাহী আকন্দ পরিবারের সদস্য শিক্ষাবিদ আলে মাহমুদ আকন্দ। সেই সময় তিনি এই এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে আলোচনা করে নাম করন করে গাংনগর আলে মাহমুদ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয। দিন পেড়িয়ে বছর পেড়িয়ে এবার পালিত হলো সেই এএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫তম বর্ষপূর্তি(প্লাটিনাম জুবলি -২০২৫) গতকাল (২৫শে ডিসেম্বর)বৃহস্পতিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিনব্যাপী হাজার হাজার প্রাপ্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান মিলন মেলায় পরিণত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য এছাড়াও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরিরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কোরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী আকন্দ এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ গবেষনা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক এমদাদুল হক। বক্তব্যের শুরুতেই প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা আলে মাহমুদ আকন্দ সহ অন্যান্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সোনাতলা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ বলেন, এই অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে অভাবনীয় অবদান রেখে গেছেন আমার প্রয়াত দাদা আলহাজ্ব আলে মাহমুদ আকন্দ। তার উদ্দোগে আজ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জেলার সেরাদের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাবিদ আলে মাহমুদ আকন্দ যার সুদর চিন্তার ফসল এই প্রতিষ্ঠান। আমি গর্বিত এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হিসেবে।
প্রাক্তন ছাত্র মোফাজ্জল হোসেন জানান ১৯৬৬সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে এসএসসি পাস করেছি এই প্রতিষ্ঠান থেকে। নূর আহম্মেদ তিনি ৮৬ব্যাচের ছাত্র এখান থেকে এসএসসি পাশ করে তিনি আজ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।মাঝপাড়ার ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কুমারী বর্ষা রানী জানান, প্রাক্তন বড় ভাই বোনেরা এখানে এসেছেন খুব ভালো লাগছে।
গাংনগর আলে মাহমুদ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ জহুরুল ইসলাম জানান, আমি এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং ২০১২সালের ১লা অক্টোবর প্রশাসনিক পদে চাকুরিতে যোগদান করি। এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১হাজার ৪৪জন ছাত্র/ছাত্রী লেখাপড়া করছেন।
এই প্রতিষ্ঠানের অনেক প্রাক্তন ছাত্র/ছাত্রী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। যেমন শিক্ষার্থী আশুতোষ সরকার তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন এবং একজন সফল কৃষি বিজ্ঞানী। এছাড়াও নূরুজ্জামান সঞ্চয় তিনি সিরাজগঞ্জ এর এম মনছুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন এবং দুদক এর পরিচালক পদে রয়েছেন মোঃ বেনজির আহমেদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য শিক্ষাবিদ রেজাউল করিম মানিক, গাজি সালাউদ্দিন তানভীর, আবুল কালাম আজাদ (পুটু), শফিকুল ইসলাম, সোনাতলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বেলাল প্রমূখ। এছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সহ বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আজকালের খবর/ এমকে